📌 বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’-এ বাংলাদেশের নারী-পুরুষ বৈষম্য সূচকে ৫৫ ধাপ পিছিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর প্রতিনিধিত্ব সর্বনিম্ন ২.৪% পৌঁছেছে, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে অবস্থান ১৪২তম। এক বছরে স্কোর কমে ৭১.২% থেকে ৭৭.৫%।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সর্বশেষ ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’ প্রকাশে বাংলাদেশের নারী-পুরুষ বৈষম্য সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নারীর অবস্থান ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে ব্যাপক অবনতি ঘটায় বাংলাদেশকে ৫৫ ধাপ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে ২৪তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এবার ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৭৯তম স্থান অধিকার করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নারী-পুরুষ বৈষম্য সূচকে। ২০২৫ সালে ২৪তম থেকে এবার ৭৯তম স্থান পেয়েছে ১৪৫টি দেশের মধ্যে।
- 📌 সামগ্রিক স্কোর কমে ৭১.২% — গত বছরের ৭৭.৫% থেকে ৬.৩ শতাংশ পয়েন্টের পতন। ২০০৬ সালের তুলনায় এখনো ৮.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হলেও এক বছরে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন।
- 📌 রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সর্বনিম্ন ২.৪% নারী প্রতিনিধিত্ব — সংসদে নারী আসনের হার এযাবৎকালের সর্বনিম্ন। মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব ১৯.০৫%।
- 📌 অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে ১৪২তম স্থান — স্কোর কমে ৪১.৯% থেকে ৪৫.৭%। শ্রমশক্তিতে নারী অংশগ্রহণ ৩৮.৪১% (পুরুষ ৭৯.৯৬%)।
- 📌 জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে নারী মাত্র ৬.১৬% — পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে নারী অংশগ্রহণ ২০.৭৫%।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’-এ বাংলাদেশের নারী-পুরুষ বৈষম্য সূচকে উল্লেখযোগ্য অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নারীর অবস্থান ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে ব্যাপক পতন ঘটেছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ এক বছরে ৫৫ ধাপ পিছিয়ে গেছে। ২০২৫ সালে ২৪তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এবার ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৭৯তম স্থান অধিকার করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর কমে ৭১.২ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের ৭৭.৫ শতাংশ থেকে ৬.৩ শতাংশ পয়েন্টের পতন ঘটেছে। প্রতিবেদনে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এখনো ৮.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবনতির চিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর গঠিত নতুন সংসদে নারীরা মাত্র ২.৪ শতাংশ আসন পেয়েছেন। সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বনিম্ন সমতার স্কোর। এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। মন্ত্রিসভায় নারীর প্রতিনিধিত্ব ১৯.০৫ শতাংশ। তবে দুই দশকে মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষ সমতার স্কোর ৯.১ থেকে বেড়ে ২৩.৫ শতাংশ হয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই দুর্বল। এ ক্ষেত্রে স্কোর কমে ৪১.৯ শতাংশ হয়েছে। ১৪৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২তম। গত বছর ছিল ১৪১তম। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর কমেছে ৫.৭ শতাংশ পয়েন্ট। নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৩৮.৪১ শতাংশ (পুরুষের ৭৯.৯৬ শতাংশ)। ২০০৬ সালে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর ছিল ৬১.১ শতাংশ। এবার তা কমে ৪৮ শতাংশ হয়েছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, “প্রতিবেদনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতির চিত্র আছে। অন্যদিকে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা চোখে পড়লেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদে বা ব্যবস্থাপনায় নারী দেখাই যায় না। আছে কাঠামোগত সমস্যা। এসব কারণে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে, পেছনে চলে গেছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো।”
"প্রতিবেদনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতির চিত্র আছে। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা চোখে পড়লেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদে বা ব্যবস্থাপনায় নারী দেখাই যায় না। আছে কাঠামোগত সমস্যা। এসব কারণে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে, পেছনে চলে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ অবস্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাহমিদা খাতুন (সিপিডি ফেলো)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ (ধাপ পিছিয়ে), ৭১.২% (সামগ্রিক স্কোর), ২.৪% (সংসদে নারী আসন), ১৯.০৫% (মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!