📌 ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। মা শিরিন আক্তার বিচার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চেয়েছেন
ফেনীর সোনাগাজীতে সংঘটিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা শিরিন আক্তার। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান এবং দশজনকে খালাস দেন আদালত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে — সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম
- 📌 চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান
- 📌 দশজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে
- 📌 নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বিচার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন শিরিন আক্তার
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায় নুসরাতের বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া জানান তার মা শিরিন আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। সিরাজ উদদৌলার জন্য আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আজ আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমার মেয়ের আত্মার শান্তি পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে রাফিকে ছাড়া সাতটা বছর কেমন করে বেঁচে আছি, সেটা কেউ বুঝতে পারবে না।’
পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিরিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমার ছেলেদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িঘরে আগুন দিলে আমাদের কী হবে? আমরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব?’ তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা চান বলে উল্লেখ করেন।
নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। তিনি জানান, নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের স্বজনেরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়।
‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। সিরাজ উদদৌলার জন্য আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আজ আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমার মেয়ের আত্মার শান্তি পেয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফেনীর সোনাগাজী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিরিন আক্তার (নুসরাতের মা), মাহমুদুল হাসান নোমান (ভাই)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যুদণ্ড বহাল ২ জন, যাবজ্জীবন ৪ জন, খালাস ১০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!