📌 ক্যানসার রোগী মেয়ের মৃত্যুর খবর পেলেও তার বাবাকে জানানো হয়নি। শামীম মেয়েকে কবর দিয়েছিলেন, কিন্তু এমদাদ সাহেবের সাথে ফোনে সংঘর্ষে উঠে গোপনীয়তা ভেঙ্গে যায়।
শায়ন্তী ক্যানসার রোগী হয়ে পড়ার পর তার বাবা-মা দু’জনেই তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেননি। শামীম মেয়েকে কবর দিয়েছিলেন, কিন্তু এমদাদ সাহেবের সাথে ফোনে সংঘর্ষে উঠে গোপনীয়তা ভেঙ্গে যায়। মৃত্যুর এক বছর আগে ধরা পড়া ক্যানসারের কথা জানতে চাওয়ার সময় শামীম বলেছিলেন, ‘জানি না’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শামীম শায়ন্তীকে কবর দিয়েছিলেন, কিন্তু তার বাবা এমদাদ সাহেবকে জানাননি মৃত্যুর খবর
- 📌 ফোনে সংঘর্ষে উঠে এমদাদ সাহেব জানতে চাইলেন, ‘আপনি কেন জানাননি?’ শামীম উত্তর দিলেন, ‘জানি না’
- 📌 শায়ন্তী হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন, এক বছর আগে ধরা পড়েছিল রোগটি
- 📌 শামীম মেয়ের মৃত্যুর আগে এক মাস ধরে দোয়া করতেন, কিন্তু এমদাদ সাহেবের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন শায়ন্তী
- 📌 শায়ন্তী মা শামীমের নাম জানতেন, কিন্তু বাবা এমদাদ সাহেবের সাথে দেখা করতে চাননি
📰 বিস্তারিত
শায়ন্তী ক্যানসার রোগী হয়ে পড়ার পর তার বাবা-মা দু’জনেই তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেননি। শামীম মেয়েকে কবর দিয়েছিলেন, কিন্তু এমদাদ সাহেবের সাথে ফোনে সংঘর্ষে উঠে গোপনীয়তা ভেঙ্গে যায়। মৃত্যুর এক বছর আগে ধরা পড়া ক্যানসারের কথা জানতে চাওয়ার সময় শামীম বলেছিলেন, ‘জানি না’।
শামীম সারা দিন ব্যস্ত ছিলেন। শায়ন্তীকে কবরে শোয়ানো হয়েছিল আসরের নামাজের পর। তারপরও অনেকক্ষণ তারা কবরস্থানে ছিল। রূপাকে সেখান থেকে বাড়িতে আনা যাচ্ছিল না। অবশেষে মাগরিবের পর তারা বাড়ি ফিরল। রাত নয়টার দিকে ড্রয়িংরুমে এশার নামাজে দাঁড়িয়ে শামীম আর কান্না ধরে রাখতে পারল না। রূপা তখনো বেডরুমে তসবিহ হাতে বসে কাঁদছিল।
এমদাদ সাহেবের ফোনে শামীম বললেন, ‘আপনি আজ আমার মেয়েকে কবর দিয়ে এলেন, আর আমাকে কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করলেন না!’ এমদাদের কণ্ঠে উত্তাপ ছিল। শামীম জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন। পাশের বাড়ির রান্নাঘর থেকে ঘটর-ঘটর শব্দ আসছিল, কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছিল না। মনে হয়েছিল কেউ মসলা পিষছেন। শামীম আর কাঁদছিলেন না। সে নির্লিপ্ত গলায় বলল, ‘হ্যাঁ, জানাইনি’।
এমদাদ সাহেব বললেন, ‘আমি ওর বাবা। তাহলে, ওর আসল বাবাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি আপনি?’ শামীম শান্ত গলায় উত্তর দিলেন, ‘না’। দুজন চুপ করে থেকে শামীম এমদাদের নিশ্বাস-প্রশ্বাস শুনতে পেলেন। শামীম জানতে চাইলেন, ‘ওর ক্যানসারটা কবে ধরা পড়েছিল?’ এমদাদ সাহেব উত্তর দিলেন, ‘এক বছর আগে’। শামীম বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘এক বছর!’
শামীম বললেন, ‘আমি জানি না, এমদাদ সাহেব। এমন উত্তর এমদাদ আশা করেনি। সে ভেবেছিল শামীম নানা যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু কেউ যখন বলে ‘জানি না’, তখন তাকে আক্রমণ করার স্পৃহা কমে যায়।
শায়ন্তী হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। শামীম বললেন, ‘মেয়েটা আজ মারা গেছে, এমদাদ সাহেব, আমরা এই আলাপ আরেক দিন করি? আজ ওর জন্য দোয়া করার সময়’। এমদাদ সাহেব বললেন, ‘আমি জানি ও মারা গেছে। তাহলে তো জানেন কেন কবর দিয়েছি?’ শামীম উত্তর দিলেন, ‘আমি জানি’।
শায়ন্তী মা শামীমের নাম জানতেন, কিন্তু বাবা এমদাদ সাহেবের সাথে দেখা করতে চাননি। শামীম বললেন, ‘শায়ন্তী আপনার নাম জানত’। এমদাদ সাহেব জানতে চাইলেন, ‘আমি কি ওর বাবা?’ শামীম উত্তর দিলেন, ‘না’।
"আমি ওর বাবা। তাহলে, ওর আসল বাবাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি আপনি?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শামীমের বাড়ি (বিশেষ স্থান উল্লেখ নেই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শামীম, এমদাদ সাহেব, শায়ন্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ বছর (ক্যানসার ধরা পড়ার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!