📌 ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু তথ্য প্রচারিত হলেও বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি নিশ্চিত হওয়ার আগে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা উঠে এসেছে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সোমবার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যু তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান সাংবাদিকদের কাছে সতর্কতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, কোনো তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রচার করা উচিত নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেছেন, ‘পদদলিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাইনি। আহত হওয়ার তথ্য যাচাই চলছে’
- 📌 টেলিভিশনে ছয়জন মৃত্যুর তথ্য প্রচারিত হলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তালিকায় মৃত্যুর কোনো নাম নেই
- 📌 মর্গের তথ্য ও অন্যান্য তালিকার মিল নেই — প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সব তথ্য মিলিয়ে দেখার নির্দেশ
- 📌 ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেছেন, ‘এখনো কোনো কনক্রিট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে’
- 📌 ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফট কন্ট্রোল রুমের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা
- 📌 হাসপাতালের সিঁড়ি বন্ধ থাকায় রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে আহত হয়েছে — দুলাল মিয়া ও সাথী বেগমের গবেষণা
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী। তিনি জানান, ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ১০টি ইউনিট একসঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার রাত ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন এমন কোনো তথ্যের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাইনি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ থাকলে আমাকে দেখান, আমি যাচাই করে দেখব। আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবে সেই তথ্যও সঠিক কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগের যে তালিকা আমাকে দেখানো হয়েছে, সেখানে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নেই। আমার কাছে আরও একটি তালিকা আছে, সেটিও যাচাই করে দেখব। মর্গের তথ্যও নেওয়া হয়েছে, তবে মর্গের তথ্যের সঙ্গে পাওয়া অন্য তথ্যের মিল নেই। সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত সংখ্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
রাত ১০টার দিকে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বৈঠক করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন তালিকা যাচাই করছি এবং যাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তবে এখনো আমাদের হাতে কোনো কনক্রিট প্রমাণ আসেনি। ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য কীভাবে এসেছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরাও সেভাবেই শুনেছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা উঠে এসেছে। লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়। তবে হাসপাতালের সিঁড়ি বন্ধ থাকায় রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে আহত হয়েছে। দুলাল মিয়া বলেন, ‘সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আমার দুই মেয়ে ও তিন নাতনি আহত হয়। আমি স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নামতে পারিনি। ভয়ের মধ্যেই মেঝেতে ছিলাম।’
"আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে পারছিলেন না। হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে নামার কয়েকটি ফটক বন্ধ ছিল। একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার, ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী, দুলাল মিয়া, সাথী বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫:৫৫ (আগুন লাগার সময়), ১০ (মিনিটে পৌঁছানো), ১০ (ইউনিট), ১১:০০ (রাত), ৬ (মৃত্যুর তথ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!