📌 ঢাকা মেট্রোরেলের নতুন লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পের অনুমোদন নিকটে। ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মিত হবে। একনেকের বৈঠকে অনুমোদন পেলে ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন হবে
বিশ্বের যানজটের নগরী ঢাকায় নতুন মেগা প্রকল্পের অনুমোদন নিকটে। একনেকের বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নির্মিত হতে যাচ্ছে ১৭.২ কিলোমিটার দীর্ঘ 'মেট্রো লাইন-৫: সাউদার্ন রুট'। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার যানজট হ্রাস এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার মেট্রো লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পের অনুমোদন নিকটে; গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মিত হবে
- 📌 ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে; বাকি ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেবে সরকার
- 📌 ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন হবে; ২০৩০ সালের জুনে নগরবাসীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে
- 📌 ২৮ মিনিটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি যাতায়াত সম্ভব হবে; প্রতিদিন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী ব্যবহার করবেন এই রুটে
- 📌 প্রতিটি ট্রেনে ২ হাজার ৩১২ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকবে; ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে
- 📌 ১ হাজার ৪৯টি সড়ক যানজট কমবে; ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে প্রকল্পটি
- 📌 প্রকল্পটি মেট্রো লাইন-২ ও মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর)কে সংযুক্ত করবে; ঢাকার পূর্ব-পশ্চিম সংযোগের জন্য উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত
📰 বিস্তারিত
বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক উপস্থাপিত এই প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ঢাকার যানজট নিরসন, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং নগর পরিবেশের উন্নতি সাধন।
প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাতায়াতের সময় কমবে মাত্র ২৮ মিনিটে। এই রুটে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী ব্যবহার করবেন। প্রতিটি ট্রেনে ২ হাজার ৩১২ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক যানজট কমবে ১ হাজার ৪৯টি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে বাতাসে ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে এই প্রকল্প।
একনেকের অনুমোদন পেলে ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন হবে। তবে প্রকল্পের উদ্বোধন হবে ২০৩০ সালের জুনে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার পূর্ব-পশ্চিম সংযোগের জন্য উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত মেট্রো লাইন-৫ (দক্ষিণ) এবং মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর)কে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে ঢাকার মেট্রোরেল অবকাঠামো সম্পূর্ণ হবে এবং শহরের মধ্যে সার্বিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের জন্য ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে। বাকি ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেবে সরকার। প্রকল্পের জন্য একটি প্রাক-সমাব্যতা সমীক্ষা (পিএফএস) পরিচালনা করা হয়েছিল, যেখানে পূর্ব-পশ্চিম সংযোগের জন্য দুটি এমআরটি লাইন নির্মাণের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
"এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা এবং বৃহত্তর ঢাকা ও এর সংলগ্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা (মোট খরচ), ১৭.২ কিলোমিটার (রেললাইন দৈর্ঘ্য), ২৮ মিনিট (যাতায়াত সময়), ৯ লাখ ২৪ হাজার (দৈনিক যাত্রী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!