📌 গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং বাড়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপিসি জানায়, ফার্নেস অয়েলের বিক্রি তিন গুণ বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে ভর্তুকির পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং বাড়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ গ্যাস সরবরাহের কমতি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর চাপ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল ও অকটেনের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের বিক্রি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্যাস সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 ডিজেল ও অকটেনের বিক্রি গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 ফার্নেস অয়েলের বিক্রি তিন গুণ বেড়েছে, গত বছরের ৫৫ হাজার টন থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার টনে পৌঁছেছে
- 📌 ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে ভর্তুকির পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে
- 📌 আগস্টে এলএনজি সরবরাহ ৪০ শতাংশ কমে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে
- 📌 সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস তেলের চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা
📰 বিস্তারিত
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এবং দীর্ঘ সারি থাকায় সিএনজি চালিত যানবাহনে ডিজেল ও অকটেনের ব্যবহার বেড়েছে। শিল্পকারখানাগুলোও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন চালু রাখতে জ্বালানি তেল ব্যবহার করছে। এছাড়াও লোডশেডিং বাড়ায় অফিস ও বাসাবাড়িতে ডিজেল-চালিত জেনারেটর ব্যবহার বেড়েছে।
বিপিসির বিপণন শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে দেশে ৩ লাখ ২৩৩ টন ডিজেল বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের আগস্টে বিক্রি ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৩ টন। অকটেনের বিক্রিও ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪ হাজার ৬৫ টনে পৌঁছেছে। তবে পেট্রলের বিক্রি তেমন বাড়েনি। গত বছরের আগস্টে পেট্রল বিক্রি হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৫৪ টন, এ বছরের আগস্টে বিক্রি হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৪ টন — যা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার গত ছয় মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। প্রথম দফায় ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, পেট্রলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়। পরে মে মাসে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। বর্তমানে পেট্রল প্রতি লিটার ১৪০ টাকা, অকটেন প্রতি লিটার ১৪৫ টাকা, ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিপিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। বর্তমানে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারকে ১৯৬ টাকা খরচ করতে হচ্ছে, কিন্তু এক লিটার ডিজেল বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১১৫ টাকায়। এভাবে ভর্তুকি দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
বিপিসির সূত্র জানায়, বাংলাদেশের তুলনায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে আরও বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। আগস্টে ভারতে প্রতি লিটার ডিজেল ১২৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ টাকা, মিয়ানমারে ১৫৯ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা, পাকিস্তানে ১৭৪ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ১৭৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
"আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। বর্তমানে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারকে ১৯৬ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সেই এক লিটার ডিজেল বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১১৫ টাকায়। এভাবে ভর্তুকি দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বঙ্গোপসাগর, বিপিসি কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রফিকুল ইসলাম (বিপিসি চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ (জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি), ২২ হাজার কোটি টাকা (ভর্তুকি), ১ লাখ ৪৩ হাজার টন (ফার্নেস অয়েল বিক্রি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!