📌 কুমিল্লার দুই ভাই-বোনের মানবিক উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’ এখন দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাসিক ১০ টাকা সঞ্চয় থেকে গড়ে উঠেছে বিশাল মানবিক শক্তি
কুমিল্লার দাউদকান্দির দুই ভাই-বোন কাওসার আলম ও ফারজানা আক্তারের ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ এখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আলো ছড়াচ্ছে। মাসিক ১০ টাকা করে সঞ্চয় করা প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর সামান্য অর্থেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা উপকরণ, পরিচালিত হচ্ছে সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাসিক ১০ টাকা সঞ্চয় থেকে শিক্ষা উপকরণ ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’
- 📌 সংগঠনের সদস্য সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি, কর্মকাণ্ড দেশের ৬৪ জেলায় বিস্তৃত
- 📌 গত ১৫ বছরে প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে সচেতন করা হয়েছে মাদক, বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে
- 📌 সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন কাওসার আলম, যিনি শুরু করেছিলেন নিজের স্কুলের বৃত্তির টাকা থেকে
- 📌 শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ১৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০০৫ সালে কাওসার আলম তখন নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তাঁর ছোট বোন ফারজানা আক্তার ছিলেন সপ্তম শ্রেণিতে। স্কুল থেকে ফেরার পথে তাঁরা দেখেন, গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের শিশুকন্যাকে তাঁর মা-বাবা মারধর করছেন। শিশুটিকে ঢাকায় পরিচিত এক ব্যক্তির বাসায় কাজে পাঠাতে চাইছিলেন তাঁরা। কিন্তু শিশুটি বারবার বলছিল, সে কাজ করতে চায় না, পড়াশোনা করতে চায়। সেই ঘটনা দুই ভাই-বোনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
বাড়ি ফিরে তাঁরা নিজেদের বৃত্তির টাকা থেকে সঞ্চয় করা অর্থ একত্র করেন। সেই টাকা শিশুটির মায়ের হাতে তুলে দেন। শিশুটি আবার পড়াশোনা শুরু করে। তবে এসএসসি পাস করার পর মেয়েটির মা-বাবা তাঁর পড়াশোনা বন্ধ করে গোপনে বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর থেকেই কাওসার ও ফারজানা নিজেদের জন্য খরচ না করে গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ কিনে দেওয়া শুরু করেন।
২০১১ সালের মে মাসে দুই ভাই-বোনের সেই ছোট উদ্যোগ সাংগঠনিক রূপ পায়। প্রতিষ্ঠিত হয় ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’। শুরুতে ছিল না বড় কোনো পৃষ্ঠপোষকতা বা বিপুল অর্থের জোগান। ছিল শুধু মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা। পরে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেন। মাসে এক দিনের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে তাঁরা ১০ টাকা করে সংগঠনে দিতে থাকেন। কারও কাছে এই অর্থ সামান্য হলেও হাজারো শিক্ষার্থীর ছোট ছোট সঞ্চয় মিলে তা হয়ে ওঠে বড় মানবিক শক্তি।
এই অর্থে কখনো কেনা হয়েছে কোনো শিশুর খাতা-কলম, কখনো বই বা স্কুলব্যাগ। ঈদের সময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেওয়া হয়েছে নতুন পোশাক। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগেও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
কাওসার আলমের নেতৃত্বে তাঁদের কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৬৪ জেলায়। গত ১৫ বছরে সংগঠনের উদ্যোগে প্রায় ৪৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সচেতন করা হয়েছে। মাদক, মিথ্যা, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, বাল্যবিবাহ, ইভ টিজিং, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে তাদের।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার ছিল কাওসারের ১ হাজার ৯৪১তম কর্মসূচি। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেও তাঁর লক্ষ্য একই—একজন শিশুর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া, একজন শিক্ষার্থীকে সচেতন করা, একটি গাছ রোপণ করা।
"আমি তরুণদের শুধু স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দেখিনি, দেখেছি সমাজ পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে। তাঁদের সামান্য সঞ্চয় মিলে বিশাল মানবিক উদ্যোগ গড়ে উঠেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, দাউদকান্দি, দেশের বিভিন্ন জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাওসার আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ টাকা, ৬৪ জেলা, ৪৫ লাখ শিক্ষার্থী, ৬ লাখ ১৫ হাজার গাছের চারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!