📌 পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ৪৭টি অপপ্রচার শনাক্ত করেছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে হত্যা, গুলিবিদ্ধ হওয়া, কারখানা বন্ধের মতো মিথ্যা দাবি রয়েছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ দাবি সত্য নয়
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া ভিডিও-ছবির সংখ্যা ৪৭টি পৌঁছেছে। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো এই অপপ্রচারগুলো শনাক্ত করেছে। এসব অপপ্রচারের মধ্যে শ্রমিকদের হত্যা, গুলিবিদ্ধ হওয়া, কারখানা বন্ধের মতো মিথ্যা দাবি রয়েছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ দাবি সত্য নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৭টি অপপ্রচার শনাক্ত করেছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান: রিউমর স্ক্যানার (৩৩টি), ডিসমিসল্যাব (৮টি), বাংলা ফ্যাক্ট (৬টি)।
- 📌 মিথ্যা হত্যার দাবি: ৪ নভেম্বর থেকে ফেসবুকে ‘হেমায়েতপুরে পাঁচজন শ্রমিক হত্যা’ ও ‘আশুলিয়ায় আটজন শ্রমিক নিহত’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে কোনো প্রমাণ নেই।
- 📌 গুলিবিদ্ধ হওয়ার মিথ্যা দাবি: ‘তানজিনা আক্তার শর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন’ বলে ছড়ানো ছবি সত্য নয়। সত্যিকারের ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি, বরং গ্যাসের শেলে আহত হয়েছিলেন।
- 📌 শিক্ষার্থী মৃত্যু মিথ্যা: ‘বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী মৃত্যু’ বলে প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু সত্যিকারের ঘটনায় শিক্ষার্থী ইটের টুকরায় আহত হয়েছিলেন।
- 📌 কারখানা বন্ধের বিভ্রান্তিকর দাবি: প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের ‘সব কারখানা বন্ধ’ বলে প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু সত্যিকারের ঘটনায় শুধুমাত্র একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে।
- 📌 সুমি আক্তার (২৭) মৃত্যু: ১৬ অক্টোবর সাভারের আশুলিয়ার নোয়াপাড়ায় ডেকো গ্রুপের কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমি আক্তার। পরে তিনি মৃত ঘোষণা হন।
- 📌 মজুরি দাবি: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন চলছে মিরপুর, সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে।
📰 বিস্তারিত
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া ভিডিও-ছবির সংখ্যা ৪৭টি পৌঁছেছে। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো এই অপপ্রচারগুলো শনাক্ত করেছে। এসব অপপ্রচারের মধ্যে শ্রমিকদের হত্যা, গুলিবিদ্ধ হওয়া, কারখানা বন্ধের মতো মিথ্যা দাবি রয়েছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ দাবি সত্য নয়।
ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ধরনের ৪৭টি ঘটনা শনাক্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রিউমর স্ক্যানার ৩৩টি, ডিসমিসল্যাব আটটি ও বাংলা ফ্যাক্ট ছয়টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘হেমায়েতপুরে পাঁচজন শ্রমিক হত্যা’ ও ‘আশুলিয়ায় আটজন শ্রমিক নিহত’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, কোনো প্রমাণ নেই যে এই ঘটনাগুলো সত্য। গাজীপুর ও মিরপুরে শ্রমিক নিহত হওয়ার দাবিগুলোও সঠিক নয়।
আন্দোলন চলাকালে আহত ব্যক্তিদের গুলিবিদ্ধ বলে প্রচারের ঘটনাও ঘটেছে। ‘গতকাল গুলিবিদ্ধ হয়ে তানজিনা আক্তার শর্মী নামে এক শ্রমিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন’—এমন দাবিতে একটি ছবি ছড়ানো হয়। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবির নারী তানজিনা আক্তার শর্মী নন, জান্নাত। তিনি গুলিবিদ্ধও হননি। ফতুল্লায় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
অন্য একটি মিথ্যা দাবি ছিল ‘পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুশয্যায় বিকেএসপি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী’। তবে যাচাইয়ে শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামির বাবা ইউসুফ রানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুল ছুটির পর বের হওয়ার সময় পেছন থেকে একটি ইটের টুকরা এসে তাঁর ছেলের মাথায় লাগে। এতে সে আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কারখানা বন্ধের বিভ্রান্তিকর দাবিও ছড়িয়ে পড়েছে। জিনস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের সব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের শুধুমাত্র একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে।
"মা হারিয়ে দুই শিশু কান্না করছে—এমন একটি ভিডিও দেখা যায় ফেসবুকে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলছে। অবুঝ ছোট একটা বাচ্চাসহ স্বজনদের আহাজারি।’ তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত কোনো নারী শ্রমিকের স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া), গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হেমায়েতপুর, ফতুল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমি আক্তার (২৭), তানজিনা আক্তার শর্মী (জান্নাত), নুরুজ্জামান সামি, ইউসুফ রানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭টি অপপ্রচার, ৩৩টি (রিউমর স্ক্যানার), ৮টি (ডিসমিসল্যাব), ৬টি (বাংলা ফ্যাক্ট), ৩০ হাজার টাকা (মজুরি দাবি), ২০ জন (শ্রমিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!