📌 আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে রাজধানীতে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত সেমিনারে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের সমালোচনা করে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সেমিনারে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের সময়েও নতুন করে গুমের ঘটনা ঘটছে। একইসঙ্গে নতুন ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ নিয়ে তাঁরা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
- 📌 নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের সমালোচনা করেছেন ভুক্তভোগীরা
- 📌 গুমের তদন্ত স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে হস্তান্তরের দাবি উঠেছে
- 📌 সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় একজন ব্যক্তিকে কোস্টগার্ড সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়
- 📌 গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক সেমিনারে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন মিরাজ শেখ, ইসমাইল হোসেন বাতেন ও ফিরোজ খানের মতো ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের সময়েও নতুন করে গুমের ঘটনা ঘটছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সাত বছরের মাহির শেখ। সে তার বাবা মিরাজ শেখের ছবি হাতে নিয়ে চারপাশে তাকাচ্ছিল। মাহিরের মা মুক্তা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী মিরাজ শেখকে ১০ এপ্রিল জয়মনির ঠোটা এলাকায় সাদা পোশাকধারী দুজন কোস্টগার্ড সদস্য স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁর মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের কাছে জিম্মা রাখা হয়।
আনিশা ইসলাম নামে আরেকজন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য জানান, তাঁর বাবা ইসমাইল হোসেন বাতেন ২০১৯ সালের ১৯ জুন মিরপুর থেকে গুম হন। তিনি বলেন, "এই সাত বছরেও আমরা আমার বাবাকে খুঁজে পাইনি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পরেও গুমের ঘটনা ঘটছে।"
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের আয়োজিত সেমিনারে সংগঠনের ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি পরিচালক তাসনিম ফারহানা লিখিত বক্তব্যে বলেন, নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি জানান, আইনের ১৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে যে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত তাদের নিজস্ব বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
"গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দিতে হবে। তা না হলে বিচারহীনতার পথ আরও প্রশস্ত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর বাংলামোটর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুক্তা খাতুন, আনিশা ইসলাম, তাসনিম ফারহানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ আগস্ট (আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস), ২০টি পরিবার, ১০ এপ্রিল, ১৯ জুন, ৫ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!