📌 গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ডাইং, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন
নারায়ণগঞ্জের শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যবস্থায় মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না, আবার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন বারবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারায়ণগঞ্জের ডাইং, নিটিং, স্পিনিং, টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট কারখানাগুলো গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
- 📌 গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে
- 📌 বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার থেমে যাচ্ছে
- 📌 উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে
- 📌 ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ডাইং কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কাপড় প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গার্মেন্টস শিল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ এগোতে পারছে না। বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোর বয়লার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি চালাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। গ্যাসের চাপ কমে গেলে মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়, অনেক সময় পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহেও অনিয়মিত হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, পরে চালু করতে সময় লাগে। ফলে কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কাঁচামালও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্যাসের স্বল্প চাপ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ ডাইং ও ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ডাইং ও টেক্সটাইল খাতকে উৎপাদনশীল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ পোশাক রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে এসব শিল্প সরাসরি সম্পৃক্ত।
"গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। কিছু কারখানায় একাধিক শিফট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার যেসব কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস দুই সংকটই রয়েছে, সেখানে উৎপাদন পরিকল্পনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ আমজাদ হোসেন (বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: কয়েক হাজার (শিল্পকারখানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!