📌 আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের গুম প্রতিরোধ আইন সংশোধনের সমালোচনা করে বলেছেন, নতুন খসড়া বিলে গুম তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে
২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের স্মরণ ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এক বিবৃতিতে গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সরকারের গুম প্রতিরোধ আইন সংশোধনের সমালোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গুমের শিকারদের স্মরণ ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন
- 📌 তিনি গুমের মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান
- 📌 সরকারের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ সংশোধনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতুন খসড়া বিলে গুম তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে
- 📌 জামায়াত নেতা বলেন, গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার সরকারের অধীনে থাকায় এর নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় রয়েছে
- 📌 তিনি উল্লেখ করেন, পতিত সরকারের শাসনামলে সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হন
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানোর নির্মম যন্ত্রণা কেবল ভুক্তভোগী পরিবারই অনুধাবন করতে পারে। বছরের পর বছর পার হলেও অনেক পরিবার এখনও মানসিক ট্রমা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আধুনিক সভ্যতার যুগেও স্বৈরাচারী শাসকদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহু মানুষ গুম হচ্ছেন। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী, পতিত সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হন। তিনি বলেন, বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা, যেখানে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
জামায়াত নেতা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৮ বছরের অবর্ণনীয় বন্দিদশার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এলেও বহু নিখোঁজ ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেননি। তাদের ভাগ্য অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঝুলছে। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নবগঠিত সরকার অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করতে অস্বীকৃতি জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধ্যাদেশটির বিভিন্ন বিধানে অসঙ্গতি রয়েছে। পরবর্তীতে সরকার উক্ত অধ্যাদেশটিতে পরিবর্তন এনে নতুন খসড়া বিল প্রণয়ন করেছে। কিন্তু নতুন খসড়া বিলে গুম সংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গুমের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তভার পুনরায় পুলিশের হাতে দেওয়া হয়েছে।
"গুম একটি বিশেষ ধরনের অপরাধ যার মোকাবিলায় বিশেষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অপরাধের তদন্তভার পুনরায় তাদের হাতেই তুলে দেওয়া একটি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন বিলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম তদন্ত থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের অধীনে গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার কতটা নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষিত হবে তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ শতাধিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!