📌 ঢাকার মেট্রোরেলে ৩১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। সর্বোচ্চ এক দিনে ৫ লাখেরও বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। তবে ঋণ কিস্তি ও পরিচালনা ব্যয় বাড়ার কারণে আয় বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রীসংখ্যা প্রত্যাশার কাছাকাছি পৌঁছেছে। মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করেছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৬ জন যাত্রী মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেছেন। যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট বিক্রি থেকে আয়ও বেড়েছে, তবে ঋণ কিস্তি ও পরিচালনা ব্যয় বাড়ার কারণে নতুন আয় উৎস খুঁজতে হয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেট্রোরেলে মোট যাত্রী: **৩১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ জন** (চালু হওয়ার পর থেকে)
- 📌 সর্বোচ্চ একদিনে যাত্রী: **৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৬ জন** (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- 📌 মেট্রোরেলের চালু হওয়া তারিখ: **২৮ ডিসেম্বর ২০২২** (উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ)
- 📌 মেট্রোরেলের সম্পূর্ণ চালু হওয়া তারিখ: **৪ নভেম্বর ২০২৩** (আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ)
- 📌 সর্বাধিক যাত্রী প্রবাহের স্টেশন: **মতিঝিল** (প্রতিদিন গড়ে **৫১ হাজার ৫৪২ জন** প্রবেশ ও **৫১ হাজার ৩৬ জন** বের হন)
- 📌 মেট্রোরেলের পরিচালক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ): **মো. নজরুল ইসলাম**
- 📌 মেট্রোরেলের সর্বাধিক যাত্রী পরিবহনকারী স্টেশন: **উত্তরা উত্তর, পল্লবী, মিরপুর-১০, কারওয়ান বাজার, সচিবালয়**
📰 বিস্তারিত
ঢাকার গণপরিবহনে মেট্রোরেল এখন মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মতিঝিলের মধ্যে যাতায়াতে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সময় বাঁচানো, যানজট এড়িয়ে চলা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। ফলে চালুর পর প্রতি বছরই যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে।
ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট কামাল হোসেন উত্তরার দিয়াবাড়ীতে বাস করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “প্রতিদিন সকাল ৮টায় মেট্রোরেলে চড়ি। শুরুর স্টেশন থেকে সহজে আধা ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে নেমে অফিসে যাই। বিকেলে বাসায় ফিরতে আরামে ব্যবহার করি মেট্রোরেল। তবে পথের স্টেশনগুলোতে মানুষ গাদাগাদি করে যাতায়াত করেন।”
মেট্রোরেলের যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে টিকিট বিক্রি থেকে আয়ও বেড়েছে। তবে মেট্রোরেলের অর্থনৈতিক হিসাব শুধু আয় দিয়ে দেখার সুযোগ নেই। এই রেলব্যবস্থা নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বৈদেশিক ঋণ থেকে। সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ আগামী কয়েক বছরে বাড়বে। একই সময়ে মেট্রোরেল পুরোনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয়ও বাড়বে। ফলে যাত্রী বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো থেকে কীভাবে আরও বেশি আয় করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেট্রোরেলের প্রকল্প নেওয়ার সময় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। বর্তমান যাত্রীসংখ্যা সেই প্রাক্কলনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মেট্রোরেলের পূর্ণ সক্ষমতা এখনো কাজে লাগানো হয়নি। সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা থাকলেও লোকবলের ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
"লোকবল পাওয়া গেছে। এখন পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেলের চলাচল রাতে বাড়ানো হবে। দুই ট্রেনের মাঝখানের বিরতির সময়ও কমবে।"
— **মো. নজরুল ইসলাম**, পরিচালক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ), ডিএমটিসিএল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (উত্তরা, আগারগাঁও, মতিঝিল, ফার্মগেট, শাহবাগ, মিরপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামাল হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ যাত্রী, ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৬ দিনে যাত্রী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!