📌 ভৈরবের ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রবন্ধ ও প্রতিষ্ঠাতার জীবন নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। শিক্ষা অফিস ও প্রশাসন অবগত নয়, আয়োজকরা স্বীকার করেছেন মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের প্রেরণায় প্রশ্নপত্র তৈরি। ৩৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়, প্রশ্ন উঠেছে অনুমোদন ও মতাদর্শ প্রচারের বিষয়ে
ভৈরব উপজেলায় অনুষ্ঠিত ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রবন্ধ ও প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর জীবন নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। শিক্ষা অফিস ও প্রশাসনের অজ্ঞতা এবং মেধাবৃত্তির আড়ালে মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় উপজেলার ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১২ নম্বর মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রবন্ধ ও প্রতিষ্ঠাতার জীবন নিয়ে রাখা হয়েছে
- 📌 ১০টি কক্ষে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৫০ শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদেরও মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে নম্বর রাখা হয়েছে
- 📌 শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসন মেধাবৃত্তি আয়োজনের বিষয়ে অবগত নয়, অনুমোদনও নেই
- 📌 মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছে, আয়োজকরা স্বীকার করেছেন তাদের প্রেরণায় প্রশ্ন রাখা
- 📌 শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়করা দাবি করেছেন, মেধাবৃত্তি পরীক্ষা মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রচারের একটি মাধ্যম
📰 বিস্তারিত
১৮ সেপ্টেম্বর ভৈরবের আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রবন্ধ ও প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর জীবন নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির ৩৫০ জন। পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা বিষয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রবন্ধ থেকে ১২ নম্বর প্রশ্ন রাখা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ইউনূস আলমগীর বলেছেন, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর জীবন ও দরবার শরীফের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কক্ষ পরিদর্শক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিছুর রহমান সাদেক দাবি করেছেন, মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রচারের জন্য এই মেধাবৃত্তি আয়োজন করা হয়েছে।
শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের অজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাস স্বীকার করেছেন, শিক্ষা অফিস ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়নি। ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেছেন, মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে প্রশ্ন রাখা শিক্ষা কারিকুলামের বাইরে এবং অনুমোদন ছাড়াই আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, কোনো গোষ্ঠী নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছে। আয়োজকরা স্বীকার করেছেন, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেই প্রশ্ন রাখা হয়েছে। তবে ভৈরবে শিক্ষা অফিস ও প্রশাসনকে না জানিয়ে এবং অনুমোদন ছাড়াই এমন আয়োজন কীভাবে হলো, সে প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।
"মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রচারের জন্য এই মেধাবৃত্তি আয়োজন করা হয়েছে"
"মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে প্রশ্ন রাখা শিক্ষা কারিকুলামের বাইরে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আগানগর, ভৈরব উপজেলা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিল্লুর রহমান (অধ্যক্ষ), আনিছুর রহমান সাদেক (শিক্ষক), ইউনূস আলমগীর (তত্ত্বাবধায়ক), মো. কামাল উদ্দিন (মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), তাপস চন্দ্র বিশ্বাস (অধ্যক্ষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩তম মেধাবৃত্তি, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৫০ শিক্ষার্থী, ১০টি কক্ষ, ১০০ নম্বরের পরীক্ষা, ১২ নম্বর মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!