📌 উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময় ছাত্র আন্দোলনের কারণে যানজটে পড়া সবুজের জীবনে এক অচেনা কল দিয়ে শুরু হলো একটি অসমাপ্ত স্মৃতির নকশিকাঁথা। কলের অন্যদিকে থাকা কাঁথা আন্টির মেয়ের অনুরোধ তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনলো স্মৃতির গভীরে
ঢাকার নতুনবাজার থেকে বাসে উঠার কিছুক্ষণ পরই সবুজের জীবনে একটি অচেনা কল দিয়ে শুরু হলো একটি অসমাপ্ত স্মৃতির নকশিকাঁথা। সন্ধ্যার একটু পর অফিস থেকে বের হয়ে নতুনবাজার মোড়ে এলেই তার কলিগ নাজমুল হোসেন বলেছিলেন, ‘রাস্তায় যানজটের কারণ ছাত্র আন্দোলন। চলুন, দুজনে গুলশান লেকে গিয়ে বসে আড্ডা দেবো’। কিন্তু পরীক্ষার সময়ের ক্লান্তি ও রাতের বাসায় ফিরার ইচ্ছা তাকে বাসে উঠতে বাধ্য করেছিল। বাসে উঠার কিছুক্ষণ পরই শুনতে পেল, রাস্তা বন্ধ। বাসচালকের সহকারী যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছিলেন। উত্তরার প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় সবুজকে ভেঙে ভেঙে যানবাহনে চড়ে মেসে পৌঁছতে হয়েছিল। রাত ৯টা বেজে গিয়েছিল যখন তিনি মেসে পৌঁছেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময় ছাত্র আন্দোলনের কারণে ঢাকার রাস্তায় যানজটের কারণে সবুজের বাস যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তিনি উত্তরায় পৌঁছতে বাধ্য হন ভেঙে ভেঙে যানবাহনে চড়ে।
- 📌 রাত ৯টা বেজে গিয়ে মেসে পৌঁছানোর পর ঘুমিয়ে পড়েন সবুজ, কিন্তু মোবাইলের রিংটোনে ঘুম ভেঙে যায়। অচেনা নাম্বার থেকে কল আসে, যেখানে একজন তরুণী বলে, ‘আমি সুমি, আমার মায়ের নাম কুসুম আক্তার। আপনি তাকে কাঁথা আন্টি বলে ডাকতেন’।
- 📌 কাঁথা আন্টির মেয়ের অনুরোধ ছিল, ‘আপনি আমাদের বাসায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আসতে পারবেন, একটু দরকার ছিল আপনার সাথে’। সবুজের মনে পড়ে যায়, কাঁথা আন্টি কে এবং কেন তার সাথে তার সম্পর্ক ছিল।
- 📌 বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদী বাড়িতে গিয়ে পরদিন শুক্রবার সকালে সবুজ হাঁটতে বের হন, কিন্তু স্মৃতির নকশিকাঁথা অসমাপ্তই থাকে।
📰 বিস্তারিত
সন্ধ্যার একটু পর অফিস থেকে বের হয়ে নতুনবাজার মোড়ে এলেই সবুজের কলিগ নাজমুল হোসেন তার সাথে আড্ডা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পরীক্ষার সময়ের ক্লান্তি ও রাতের বাসায় ফিরার ইচ্ছা তাকে বাসে উঠতে বাধ্য করেছিল। বাসে উঠার কিছুক্ষণ পরই শুনতে পেলেন, রাস্তা বন্ধ। বাসচালকের সহকারী যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছিলেন। উত্তরার প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় সবুজকে ভেঙে ভেঙে যানবাহনে চড়ে মেসে পৌঁছতে হয়েছিল। রাত ৯টা বেজে গিয়েছিল যখন তিনি মেসে পৌঁছেছিলেন। বড্ড ক্লান্ত থাকায় রুমে গিয়ে বিছানায় বসতে গিয়ে শুয়ে পড়েন এবং ঘুমিয়ে পড়েন।
হঠাৎ মোবাইলের রিংটোনে ঘুম ভেঙে যায় সবুজের। কলটি আসে অচেনা নাম্বার থেকে। মোবাইলের বিপরীত পাশ থেকে একজন তরুণী কণ্ঠ ভেসে আসে, ‘হ্যালো, আপনি কি সবুজ ভাই বলছেন?’ সবুজের প্রত্যুত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ’। তারপর মেয়েটি বলে, ‘আমি সুমি, আমার মায়ের নাম কুসুম আক্তার। আপনি তাকে কাঁথা আন্টি বলে ডাকতেন’। সবুজের মনে পড়ে যায়, কাঁথা আন্টি কে এবং কেন তার সাথে তার সম্পর্ক ছিল। সে বলল, ‘ও আচ্ছা, চিনতে পারছি, আপনি কাঁথা আন্টির মেয়ে’।
মেয়েটি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি আমাদের বাসায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আসতে পারবেন, একটু দরকার ছিল আপনার সাথে’। সবুজের মনে পড়ে যায়, কাঁথা আন্টির মেয়ের কী দরকার থাকতে পারে। তার মোটামুটি ঘুম ভেঙে গেছে। সে মনে করতে শুরু করে কাঁথা আন্টিকে। আগে যখন নিয়মিত সকালে হাঁটতে যেত সবুজ, তখনই আন্টির সঙ্গে তার পরিচয়। নরসিংদী থেকে ঢাকা চাকরির জন্য আসার আগে কোনো এক কারণে মোবাইল নম্বরটা দিয়ে এসেছিল সবুজ। মাস ছয়েক হয়ে গেল, সে–ও তেমন নরসিংদী যায় না, আবার গেলেও তেমন সকালে হাঁটতে বের হয় না। তাই সেদিকে যাওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদী বাড়িতে গিয়ে পরদিন শুক্রবার সকালে সবুজ হাঁটতে বের হন। বাড়ি থেকে বের হয়ে বড় বাজার ব্রিজ হতে থানার ঘাট বেড়িবাঁধের রাস্তা দিয়ে সাধারণত সে হাঁটাহাঁটি করে। এই হাঁটার শেষ হয় নতুন লঞ্চঘাট ও বাউলঘাটের পর একটা সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের রাস্তায় গিয়ে। এরপর ফিরতি পথে নতুন লঞ্চঘাট বরাবর মেইন রোডে হাঁটবে। স্মৃতির নকশিকাঁথা অসমাপ্তই থাকে।
"আমাগো কি টাকার অভাব যে তুমি এই বয়সে কাঁথা সেলাই করো, আবার বেচো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (নতুনবাজার, উত্তরা, নতুন লঞ্চঘাট, বাউলঘাট), নরসিংদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সবুজ, নাজমুল হোসেন, সুমি (কাঁথা আন্টির মেয়ে), কুসুম আক্তার (কাঁথা আন্টি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টা (রাত), ১৮ (মাস), ২০ (দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!