📌 সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ব্যালাস্ট ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কাজের আগে ও চলাকালে গ্যাস পরীক্ষা না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না
সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ব্যালাস্ট ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কাজের আগে ও চলাকালে নিয়মিত বিষাক্ত গ্যাসের পরীক্ষা না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ জনের মৃত্যু: সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে ব্যালাস্ট ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে ১৪ আগস্ট ৯ জনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে আর ১ জনের মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা ১০ হয়।
- 📌 বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি: ব্যালাস্ট ট্যাংকের জমে থাকা পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি ছিল, যা কাজের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণঘাতী হতে পারে।
- 📌 নিরাপত্তা সচেতনতা: বুয়েটের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেছেন, কাজের আগে ও চলাকালে নিয়মিত গ্যাস পরীক্ষা করা এবং উদ্ধার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
- 📌 কর্মশালায় সতর্কবার্তা: চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দেন।
📰 বিস্তারিত
গত ১৪ আগস্ট সকালে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ ‘এমটি রাসি’র ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিচের অংশে ছিদ্র করে জমে থাকা পানি বের করার সময় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকরা অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। প্রথমে ৯ জনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে আর ১ জনের মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা ১০ হয়। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড ফেরদৌস স্টিলের সব কার্যক্রম স্থগিত করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে।
বিশেষজ্ঞ দলের তদন্তে দেখা যায়, ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি ছিল। অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ‘ব্যালাস্ট ট্যাংক যেকোনো মুহূর্তে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। কাজের আগে পরীক্ষা করে বিষাক্ত গ্যাস না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে কিছুক্ষণ পরও জায়গাটি নিরাপদ থাকবে।’ তিনি বলেন, কাজের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। পানিতে দ্রবীভূত বিষাক্ত গ্যাস তখন বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যালাস্ট ট্যাংক হলো জাহাজের ভারসাম্য ঠিক রাখতে তৈরি বিশেষ পানির ট্যাংক। এই পানিকে ব্যালাস্ট পানি বলা হয়। ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য আনা ‘এমটি রাসি’ জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে দীর্ঘদিন পানি জমে ছিল। বিশেষজ্ঞ দলের তদন্তে দেখা গেছে, স্থির পানির নিচের অংশে অক্সিজেন কমে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে অণুজীবের ক্রিয়ায় সালফাইড তৈরি ও জমা হতে পারে। পানি বের করা বা তলানি নাড়াচাড়া করলে সেখান থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
"কাজের মধ্যে বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি। ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি বের করা, তলানি নাড়াচাড়া করা কিংবা লোহার পাত কাটার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। পানিতে দ্রবীভূত বিষাক্ত গ্যাস তখন বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।"
অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, দুর্ঘটনাটির আরেকটি বড় শিক্ষা হলো উদ্ধার ব্যবস্থা নিয়ে। বিষাক্ত গ্যাসে কেউ অচেতন হলে তাঁকে বাঁচাতে সুরক্ষা ছাড়া একই জায়গায় প্রবেশ করলে উদ্ধারকারী নিজেও আক্রান্ত হতে পারেন। ফেরদৌস স্টিলের দুর্ঘটনায়ও এমনটি ঘটেছে। প্রথমে দুজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করতে অন্যরা এগিয়ে যান। যথাযথ শ্বাসপ্রশ্বাসের সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় তাঁরাও বিষাক্ত পরিবেশের সংস্পর্শে আসেন। ফলে একটি ঘটনা একাধিক মানুষের প্রাণহানিতে রূপ নেয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ইয়াসির আরাফাত খান (বুয়েট অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জন মৃত্যু, ৯ জন প্রাথমিক মৃত্যু, ১ জন হাসপাতালে মৃত্যু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!