📌 গাজার অভিনেতা আবু কাসাই কাদ্দুরা যুদ্ধের কালো ছায়ায় নিজের পরিবারকে গরম রাখতে জ্বালানি সংগ্রহ করেন। তার পরিবার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একটি মজবুত কাপড়ের টেন্টে অভিনয় করেন। ৩৭ বছর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন তাদেরকে যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে উঠা জীবনের ঘটনাগুলো থিয়েটারে রূপান্তরিত করছেন। গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থানের ধ্বংসের মধ্যেও তারা থিয়েটারকে জীবিত রাখতে চেষ্টা করছেন
গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় বসবাসকারী ৪২ বছর বয়সী অভিনেতা আবু কাসাই কাদ্দুরা প্রতিদিন সকাল ছয়টায় জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বের হন। তার পরিবার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং তারা শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি রেন্টেড হাউজের ছাদে একটি প্লাস্টিকের টার্পে আশ্রয় নিয়েছেন। জ্বালানি সংগ্রহের জন্য তিনি প্রতি কিলোগ্রামে সাত শেকেল (২ ডলার) মূল্যের জ্বালানি কিনতে যান। যখন তিনি তা কিনতে পারেন না, তখন তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির থেকে কাগজ, প্লাস্টিক বা কাঠের টুকরো সংগ্রহ করেন। এই জ্বালানি দিয়ে তিনি পরিবারের জন্য খাবার পাকান এবং গরম রাখেন। তারপর তিনি কালো ধোঁয়ায় ভিজে গেলে হাত ধুয়ে অভিনয় শুরুর জন্য রওনা হন। দুই ঘণ্টা পথ হেঁটে তিনি গাজা সিটি’র রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পার্কিং লটে একটি মজবুত কাপড় ও প্লাস্টিকের টেন্টে অভিনয় অনুশীলনের জন্য পৌঁছান। পথে তিনি রাব্বেলে ভরা সড়ক এবং ইসরায়েলি গুলিবর্ষণের ঝুঁকির কারণে প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের ছোট সড়ক দিয়ে যান। পৌঁছানোর সময় তার ঘুঁটো ব্যথা করে এবং শ্বাসকষ্ট হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪২ বছর বয়সী অভিনেতা আবু কাসাই কাদ্দুরা** গাজার যুদ্ধের কালো ছায়ায় নিজের পরিবারকে গরম রাখতে প্রতিদিন জ্বালানি সংগ্রহ করেন এবং দুই ঘণ্টা পথ হেঁটে অভিনয় অনুশীলনের জন্য যান।
- 📌 **অভিনয় অনুশীলনে তিনি একটি চরিত্রে একজন ডাক্তারকে দেখান যিনি গাজার একটি হাসপাতালে আটকে পড়েন এবং একটি শিশুকে অ্যাম্পুটেশন করতে বাধ্য হন।** এই দৃশ্যে তিনি একটি বাবা চরিত্রে অভিনয় করেন যিনি তার সন্তানের মৃত্যু দেখেন।
- 📌 **অভিনয় শেষে তিনি নিজের সন্তানদের চেহারা দেখে ভেঙ্গে পড়েন এবং বলেন, ‘আমি কেবল চরিত্রে অভিনয় করছিলাম না, আমি নিজের সন্তানদের চেহারা দেখছিলাম।’**
- 📌 **৩৭ বছর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন** তাদেরকে যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে উঠা জীবনের ঘটনাগুলো থিয়েটারে রূপান্তরিত করছেন।
- 📌 **গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থানের ধ্বংসের মধ্যেও** তিনি ‘৫০ মিনিট গাজা’ নামে একটি নাটক তৈরি করেছেন, যেখানে অভিনেতারা নিজেদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থিয়েটারে উপস্থাপন করছেন।
- 📌 **ইসরায়েলি হামলায় ২০১৮ সালে আল-মিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ২০২৩ সালে রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।**
📰 বিস্তারিত
গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় বসবাসকারী আবু কাসাই কাদ্দুরা তার পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের পর অভিনয় অনুশীলনের জন্য রওনা হন। তিনি তার পরিবারকে গরম রাখতে এবং খাবার পাকাতে জ্বালানি জোগান দেন। তারপর তিনি অভিনয় অনুশীলনের জন্য রওনা হন, যা দুই ঘণ্টা সময় নেয়। পথে তিনি রাব্বেলে ভরা সড়ক এবং ইসরায়েলি গুলিবর্ষণের ঝুঁকির কারণে প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের ছোট সড়ক দিয়ে যান। পৌঁছানোর সময় তার ঘুঁটো ব্যথা করে এবং শ্বাসকষ্ট হয়।
অভিনয় অনুশীলনে তিনি একটি চরিত্রে একজন ডাক্তারকে দেখান যিনি গাজার একটি হাসপাতালে আটকে পড়েন এবং একটি শিশুকে অ্যাম্পুটেশন করতে বাধ্য হন। এই দৃশ্যে তিনি একটি বাবা চরিত্রে অভিনয় করেন যিনি তার সন্তানের মৃত্যু দেখেন। এই দৃশ্য গাজায় একটি বাবা-সন্তানের সত্য ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। কাদ্দুরা বলেন, “আমি কেবল চরিত্রে অভিনয় করছিলাম না, আমি নিজের সন্তানদের চেহারা দেখছিলাম। প্রতিবার যখন আমি সেই শিশুকে ধরে রাখতাম, আমার হৃদয়ে ভয় জাগত যে পরদিন এটি আমার নিজের সন্তানদের হতে পারে। আমি রোদে পড়তে পারিনি কারণ ভয় ততটা বাস্তব ছিল।”
অভিনয় শেষে তিনি নিজের সন্তানদের চেহারা দেখে ভেঙ্গে পড়েন এবং বলেন, “আমি কেবল চরিত্রে অভিনয় করছিলাম না, আমি নিজের সন্তানদের চেহারা দেখছিলাম। প্রতিবার যখন আমি সেই শিশুকে ধরে রাখতাম, আমার হৃদয়ে ভয় জাগত যে পরদিন এটি আমার নিজের সন্তানদের হতে পারে। আমি রোদে পড়তে পারিনি কারণ ভয় ততটা বাস্তব ছিল।” তারপর তিনি সোবার জন্য পাশে বসে জল পান করেন এবং জানান যে তিনি জানেন না কীভাবে আবার এই দৃশ্য অভিনয় করতে পারবেন।
৩৭ বছর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন তাদেরকে যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে উঠা জীবনের ঘটনাগুলো থিয়েটারে রূপান্তরিত করছেন। তিনি বলেন, “আমি ৩৭ বছর থিয়েটারে কাজ করেছি এবং গাজার অভিনেতাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমার নাটকগুলো মিশর এবং টিউনিসিয়া পর্যন্ত গিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আমাদের থিয়েটার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি এখন জিজ্ঞাসা করছি, কোথায় থিয়েটার করব? আমরা কোথায় নাটক উপস্থাপন করব?”
"আমি কেবল চরিত্রে অভিনয় করছিলাম না, আমি নিজের সন্তানদের চেহারা দেখছিলাম। প্রতিবার যখন আমি সেই শিশুকে ধরে রাখতাম, আমার হৃদয়ে ভয় জাগত যে পরদিন এটি আমার নিজের সন্তানদের হতে পারে। আমি রোদে পড়তে পারিনি কারণ ভয় ততটা বাস্তব ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা সিটি, শেখ রাদওয়ান, রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আবু কাসাই কাদ্দুরা (৪২), আলি আবু ইয়াসিন (৩৭ বছর অভিজ্ঞতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থানের ধ্বংস, ১২৮টি ঐতিহাসিক বা শিল্পগত গুরুত্বপূর্ণ ভবন ধ্বংস, ৫০ মিনিট গাজা নাটক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!