📌 বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের ভ্রমণ সময় কমবে ৩ ঘণ্টা এবং ঢাকা-কুমিল্লা দূরত্ব ৮৫-৯০ কিলোমিটার হ্রাস পাবে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লা (লাকসাম) পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোরে বিপ্লবী পরিবর্তন আনবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রামের ভ্রমণ সময় কমবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে, যা বর্তমান ৫ ঘণ্টা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রামের ভ্রমণ সময় কমবে ৩ ঘণ্টা — মাত্র ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে পৌঁছনো সম্ভব হবে
- 📌 প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-কুমিল্লা দূরত্ব ৮৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার হ্রাস পাবে, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের ডুয়েল-গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরিত হওয়ার কারণে সম্ভব
- 📌 প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের জন্য ৯৬১ দশমিক ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রাথমিক বাস্তবায়ন ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা
- 📌 প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের যানজট কমবে এবং দক্ষিণমুখী ট্রেনগুলোকে ব্যস্ত সেকশন এড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে
- 📌 কর্ড লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন সেবা চালু হবে, যা উপশহর উন্নয়নে সহায়তা করবে
- 📌 প্রকল্পটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার করিডোর এবং বিমসটেক আঞ্চলিক রুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে কুমিল্লা (লাকসাম) পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোরে ডুয়েল-গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে ঢাকা-কুমিল্লা দূরত্ব ৮৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার হ্রাস পাবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের ভ্রমণ সময় কমবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে, যা বর্তমান ৫ ঘণ্টা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বর্তমানে সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় নেয়।
প্রকল্প পরিচালক আবিদুর রহমান জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আশপাশে জমির উচ্চমূল্য এবং ফসলি জমি বাঁচিয়ে সেতু ও কালভার্টসহ বড় আকারের ভায়াডাক্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কারণে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পে বিলম্ব হলে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন হবে, যা পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় এবং বাড়তি ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
কর্ড লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন সেবা চালু করা সম্ভব হবে। এটি সাশ্রয়ী উপশহরী জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করবে এবং কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে। এছাড়াও, ঢাকার ওপর জনসংখ্যা ও যানজটের অতিরিক্ত চাপ কমাবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, কর্ড লাইনটি শুধু যাত্রী পরিবহনেই নয়, চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রেনগুলোর যাতায়াতকে সহজতর করবে।
"এই কর্ড লাইনটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন খাতে বাজার অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৌশলগত পরিবর্তনের সূচনা করবে।"
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভ্রমণের সময় হ্রাস পাওয়ায় জ্বালানি ও শক্তি ব্যয় কমবে এবং পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, ট্রেনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন একাধিক ট্রেন সেট চলাচল করতে পারবে, যা বিদ্যমান রোলিং স্টকের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। প্রকল্পের মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়নকে সহায়তা করা হবে এবং জাতীয় পরিবহন নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, কুমিল্লা (লাকসাম), নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবিদুর রহমান (প্রকল্প পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ হাজার কোটি টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ৯৬১ দশমিক ৯৯ লাখ টাকা (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা), ৮৫-৯০ কিলোমিটার (দূরত্ব হ্রাস), ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (ভ্রমণ সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!