📌 যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, অতিরিক্ত গরম চা-কফি পান খাদ্যনালি ক্যানসারের ঝুঁকি তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ১০ লাখেরও বেশি মানুষের উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৬ কাপের বেশি গরম পানীয় পানকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ৭১% বেড়েছে
দিনের শুরুতে এক কাপ গরম চা বা কফি অনেকের জন্য আনন্দের একটি অভ্যাস। কিন্তু এই অভ্যাসের পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি বিশাল পরিসংখ্যানগত গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত গরম পানীয় পান খাদ্যনালি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ লাখেরও বেশি মানুষের উপর ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে করা গবেষণায় দেখা গেছে, খুব গরম পানীয় পানকারীদের খাদ্যনালি ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি
- 📌 দিনে ৬ কাপের বেশি গরম পানীয় পানকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ৭১ শতাংশ বেড়ে যায়
- 📌 ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয় মানবদেহের খাদ্যনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ক্যানসার সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ায়
- 📌 সাধারণত কাপে ঢালা পানির তাপমাত্রা ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, যা খাদ্যনালির পাতলা কোষকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে
- 📌 গবেষকরা বলেছেন, চা বা কফিতে দুধ মেশালেও পানীয়ের তাপমাত্রা খাদ্যনালির জন্য সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি থাকে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন, পানীয় কাপে ঢালার পর অন্তত ৩ থেকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর পান করা উচিত
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ১০ লাখ (৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন) মধ্যবয়সী মানুষের ওপর দীর্ঘ ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে একটি পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে খাদ্যনালি ক্যানসার বা ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সাথে গরম পানীয়ের সম্পর্কের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খুব গরম পানীয় পান করেন, তাদের খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণ বা হালকা গরম পানীয় পানকারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
গবেষকদের মতে, সমস্যাটি পানীয়ের উপাদানে নয়, বরং এর তাপমাত্রায়। আন্তর্জাতিক কর্কট গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয় মানবদেহের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হতে পারে। সাধারণত কেটলিতে ফুটানো পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, এবং কাপে ঢালার পরও তা ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা খাদ্যনালির পাতলা কোষগুলোকে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত করে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ক্যানসারের কোষ তৈরিতে সহায়তা করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা দিনে ৬ কাপ বা তার বেশি গরম পানীয় পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের ঝুঁকি ৭১ শতাংশ বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, গরম চায়ে দুধ মেশালে তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, দুধ মেশানোর পরও পানীয়টি খাদ্যনালির জন্য সহনশীল মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি গরম থেকে যায়। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন, চা বা কফি কাপে ঢালার পর সরাসরি মুখে না তুলে অন্তত ৩ থেকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। এর ফলে পানীয়ের তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে নেমে আসে, যা স্বাদও বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।
"আমাদের জিব বা মুখ তাপ অনুভব করলেও খাদ্যনালিতে যন্ত্রণার অনুভূতি বোঝার মতো রিসেপ্টর কম থাকে। ফলে আমরা বুঝতে না পারলেও অতি গরম তরল নেমে যাওয়ার সময় খাদ্যনালির ভেতরের পাতলা কোষগুলোকে প্রতিনিয়ত পুড়িয়ে দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গবেষকরা, বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী), ১০-১৪ বছর (গবেষণার সময়কাল), ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাস্থ্যঝুঁকির তাপমাত্রা), ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (কেটলিতে ফুটানো পানির তাপমাত্রা), ৯০-৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (কাপে পানির তাপমাত্রা), ৭১ শতাংশ (ঝুঁকির বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!