📌 হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা রিট মামলার নিষ্পত্তির হার বাড়িয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে রিট দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করলে মামলার চাপ আরও কমবে
হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আদালতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে, যা রিট মামলার নিষ্পত্তির হার বাড়িয়েছে। শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাইকোর্টে ২০২৬ সালের শুরুতে রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি, যা জুন পর্যন্ত কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি
- 📌 জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৪ হাজার ১১২টি নতুন রিট মামলা দায়ের হলেও ২ হাজার ২১৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়; এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নতুন মামলা ৪ হাজার ৭২৯টি হলেও ৯ হাজার ৫৯০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়
- 📌 ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিট দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করলে মামলার চাপ আরও কমবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল
- 📌 সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক; প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণযোগ্য নয় বলে সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে
- 📌 জমি দখল, জমির সীমানা নির্ধারণ বা বিল-বাঁওড় নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধের জন্য নিম্ন আদালতে মামলা করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সরাসরি হাইকোর্টে রিটের প্রবণতা বাড়ছে
📰 বিস্তারিত
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলার নিষ্পত্তির হার বাড়ার পাশাপাশি নতুন মামলা দায়েরের হার কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিচারিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আদালতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন রিট মামলা দায়ের হয় ৪ হাজার ১১২টি, কিন্তু একই সময়ে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি মামলা। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নতুন রিট মামলা দায়ের হয় ৪ হাজার ৭২৯টি, কিন্তু বিপরীতে এ সময়ে নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি মামলা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন মামলা দায়েরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। জুন শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টিতে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেক সময় পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের নামে ব্যক্তিস্বার্থে রিট করা হয়। এসব মামলার উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রে আত্মপ্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণযোগ্য নয়—এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অসংখ্য রায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টের কিছু বেঞ্চ প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট গ্রহণ করে আদেশ দিচ্ছে, যা বিচারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
"বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিটের প্রবণতা বন্ধ করলে মামলার চাপ আরও কমবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি (মামলা), ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি (মামলা), ৯ হাজার ৫৯০টি (নিষ্পত্তি), ৪ হাজার ৭২৯টি (নতুন মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!