📌 চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে মেট্রোরেল বা মনোরেলের পরিবর্তে প্রায় ৭০০ আধুনিক বাস, বিআরটি ও সড়ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধানের সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থাই হবে অধিক কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই
চট্টগ্রাম নগরের ক্রমবর্ধমান যানজট সমাধানে মেট্রোরেল বা মনোরেল নির্মাণের পরিবর্তে প্রায় ৭০০ আধুনিক বাস ব্যবস্থা, বাস রুট পুনর্বিন্যাস এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালুর সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটির প্রণীত খসড়া ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে মেট্রোরেল বা মনোরেলের পরিবর্তে ৭০০ আধুনিক বাস ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে সিডিএ
- 📌 খসড়া মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের জন্য প্রয়োজনীয় যাত্রী চাহিদা ২০৫০ সালেও পূরণ হবে না
- 📌 প্রকল্প পরিচালক আবু ঈসা আনছারী জানান, মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা
- 📌 মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়
- 📌 চট্টগ্রামে বর্তমানে মেট্রোরেলের জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রতি দিকে অন্তত ১৮ হাজার যাত্রীর প্রয়োজন হলেও তা অনুপস্থিত
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) খসড়া ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেট্রোরেল বা মনোরেল নির্মাণের পরিবর্তে আধুনিক বাস ব্যবস্থা ও সড়ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যানজট সমাধান অধিক কার্যকর হবে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিবর্তে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকায় ৭০০টি আধুনিক বাস, বিআরটি ও বাস রুট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
প্রকল্প পরিচালক ও উপপ্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী জানান, মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে যানজট ও দুর্বল অবকাঠামোর মতো সমস্যাগুলো দূর করতে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনের আধুনিকায়ন এবং নৌপথ ও রেলপথের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ মেট্রোরেল চালু করতে হলে প্রতি ঘণ্টায় প্রতি দিকে অন্তত ১৮ হাজার যাত্রীর চাহিদা থাকতে হয়। বর্তমানে চট্টগ্রামে এত যাত্রী নেই। এমনকি ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিবহন মাস্টারপ্ল্যানসহ মেট্রোরেলের সমীক্ষার প্রিলিমিনারি সার্ভে কাজসংক্রান্ত’ শীর্ষক এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে অর্থায়ন করছে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)।
"চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সড়কগুলো বিশেষ করে সিডিএ অ্যাভিনিউ, বিমানবন্দর সড়কে উড়ালসড়ক ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। মূল সড়কগুলোর বিদ্যমান অবস্থায় মেট্রোরেল নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব হলেও তা হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম নগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু ঈসা আনছারী (প্রকল্প পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০০ (আধুনিক বাস), ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা (মেট্রোরেল ব্যয়), ১৮ হাজার (যাত্রী চাহিদা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!