📌 একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে যুদ্ধের নানা চিত্র, নিহত ভারতীয় সেনাদের নাম এবং বিজয়ের মুহূর্তের ইতিহাস।
একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতি ধারণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ অবশেষে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভের দ্বার উন্মোচন করেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে কামাউরা এলাকায় ৩ একর ৬১ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর অবদানকে তুলে ধরবে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭২ কোটি টাকা, যা প্রাথমিকভাবে ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা
- 📌 প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে, শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে
- 📌 স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা রয়েছে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা
- 📌 এখানে ব্রোঞ্জে খোদাই করা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ১ হাজার ৪৮২ জন ভারতীয় সেনাসদস্যের নাম
- 📌 স্মৃতিস্তম্ভের অভ্যন্তরে রয়েছে অফিস, সংগ্রহশালা, ফুড কোর্ট ও শিশুদের জন্য পার্ক
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার কামাউরা এলাকায় নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই স্মৃতিস্তম্ভের দ্বার উন্মোচন করেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭২ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা। কয়েক দফা মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়।
স্মৃতিস্তম্ভটির অভ্যন্তরে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার খোদাই করা চিত্র। পশ্চিমাংশে রয়েছে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য। এছাড়া সেখানে সিকান্দার আবু জাফরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশও খোদাই করা রয়েছে। দক্ষিণ দিকের পার্কের পূর্ব পাশে রয়েছে মিত্রবাহিনীর অস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের চিত্র। মূল স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে ব্রোঞ্জে খোদাই করা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাদের নাম। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৪৮২ জন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৯ জন ইস্টার্ন থিয়েটার সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সদস্য, ১১ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ৬ জন নৌবাহিনীর সদস্য এবং ৭৯ জন কর্মকর্তা ও ৭০ জন জেসিও পর্যায়ের সদস্য।
স্মৃতিস্তম্ভের অভ্যন্তরে অফিস, সংগ্রহশালা, ফুড কোর্ট ও শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগ ২০২৪ সালে এই স্মৃতিস্তম্ভ ও পার্কটি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। ভেতরে ২৭টি দোকানসহ রক্ষণাবেক্ষণে মাসে প্রায় আট লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় বলে জানা গেছে।
"একাত্তরের সেই রক্তাক্ত ইতিহাস ও বাঙালির বিজয়ের গল্প এবার আরও কাছে থেকে দেখার সুযোগ পাবেন নতুন প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আশুগঞ্জ উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ কোটি টাকা, ৩ একর ৬১ শতাংশ জমি, ১ হাজার ৪৮২ জন ভারতীয় সেনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!