📌 বাগেরহাটে নির্মিত ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পচা দিঘির পানি পরিশোধন করে পৌর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দিঘির বর্তমান অবস্থা এবং মাছ শিকারের কারণে পানির দূষণের সম্ভাবনা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে
বাগেরহাটের পৌরবাসীদের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে প্রায় ৪০ কোটি টাকায় নির্মিত একটি পানি প্রকল্প পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ভৈরব নদ থেকে সংগ্রহ করা পানি পচা দিঘিতে সংরক্ষণ ও পরিশোধন করে পৌর এলাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত পচা দিঘির বর্তমান অবস্থা এবং মাছ শিকারের কারণে পানির দূষণের সম্ভাবনা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেরহাটে নির্মিত ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
- 📌 প্রকল্পের মাধ্যমে ভৈরব নদ থেকে ৪ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা পানি পচা দিঘিতে সংরক্ষণ ও পরিশোধন করে পৌর এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
- 📌 প্রকল্পের অবকাঠামো যেমন ওভারহেড ট্যাংক, পাম্প হাউস ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
- 📌 পচা দিঘির ১০৮টি ঘাটে মাছ শিকারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ঘাটের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে।
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, মাছ শিকারের কারণে দিঘির পানিতে পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য জমে পানির গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- 📌 জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেছেন, প্রকল্পটি পুনরায় কার্যকর করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দিঘির লিজের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করে পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাট পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি ২০২১ সালের জুনে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটি বাগেরহাট পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওভারহেড ট্যাংক, পাম্প হাউস ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিছু যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে এবং কিছু সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার কথাও জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা গেলে প্রকল্পটি পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
পচা দিঘিটি বর্তমানে মাছ চাষ ও মাছ শিকারের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সৌখিন মাছ শিকারিরা অংশ নেন। দিঘির চারপাশে ১০৮টি ঘাটে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ঘাটের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দুই দিনে শত মনেরও বেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান বলেছেন, দিঘির পানি আশপাশের মানুষ রান্না, গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ প্রকল্পটি কার্যকরভাবে চালু হলে এই পানির উৎসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরিশোধনের মাধ্যমে পৌরবাসীর উপকারে লাগানো সম্ভব। আরেক বাসিন্দা শিমুল বলেছেন, দিঘির পানি পরিশোধন করে পৌর এলাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে পানির সংকট অনেকটাই কমে আসতে পারে।
"এখানকার পানি ট্রিটমেন্ট করে দেয়া যায় কি-না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যেহেতু এটি দীর্ঘমেয়াদি লিজের আওতায় রয়েছে, তাই লিজের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করে পুকুরটিকে বিশেষ করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা যায় কি-না, সেটিও আমরা দেখব।"
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেছেন, বাগেরহাটের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে পচা দিঘির পানিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটি পুনরায় কার্যকর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাট পৌরসভা, ভৈরব নদ, পচা দিঘি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, স্থানীয় বাসিন্দা রমজান ও শিমুল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ কোটি টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ৪ কিলোমিটার (পাইপলাইন দৈর্ঘ্য), ১০৮টি ঘাট, ২৫ হাজার টাকা (প্রতি ঘাটের ইজারা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!