📌 মেহেরপুরের হিতিমপাড়া ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ভৈরব নদে ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঁশের সাঁকোই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের এই কষ্ট দূর করতে সেতু নির্মাণের দরকার। সরকারি দপ্তরও প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে, কিন্তু অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় কাজ শুরু হয়নি
মেহেরপুরের হিতিমপাড়া ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ভৈরব নদে ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঁশের সাঁকোই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিবছর বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, যা কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের এই কষ্ট দূর করতে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দরকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮০ বছর বয়সী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকেই বাঁশের সাঁকোই দেখছি, সেতু দেখিনি’।
- 📌 প্রতিবছর বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা মেরামত করতে হয় স্থানীয়দের নিজস্ব খরচে।
- 📌 ৮০ বছর ধরে এই সাঁকো দিয়ে দুই উপজেলার মানুষ যাতায়াত করে, যা কৃষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ।
- 📌 কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, বর্ষায় সাঁকোটি পানিতে ডুবে যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
- 📌 মেহেরপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন ও দরপত্র শেষ হলে কাজ শুরু হবে।
- 📌 মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান বলেন, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
- 📌 ১১ দলীয় ঐক্যজোট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি তুলেছে।
📰 বিস্তারিত
মেহেরপুরের সদর উপজেলার হিতিমপাড়া ও গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ভৈরব নদে ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঁশের সাঁকোই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিবছর বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা মেরামত করতে হয় স্থানীয়দের নিজস্ব খরচে। এতে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
৮০ বছর বয়সী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকেই দেখছি এখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের এই কষ্ট দূর হয়নি। ভারী যানবাহন নিয়ে অনেক পথ ঘুরে এপার থেকে ওপারে যেতে হয়। কৃষক ও শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এখানে সেতু নির্মাণ হলে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।’
পথচারী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘শত বছরের পুরোনো এই খেয়াঘাটে আজও সেতু নির্মাণ হয়নি। সেতু হলে দুই উপজেলার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘হিতিমপাড়া, চাঁদপুর, রামদাসপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। বর্ষায় সাঁকোটি প্রায় পানিতে ডুবে যায়। তখন ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’
মেহেরপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, ‘গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া সেতুর বিষয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে এবং দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান বলেন, ‘হিতিমপাড়া ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ভৈরব নদ ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুর্ভোগ চলে আসছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’
এই সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবি তুলেছে।
"আমার জন্মের পর থেকেই দেখছি এখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের এই কষ্ট দূর হয়নি।" — ৮০ বছর বয়সী আব্দুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেহেরপুর সদর উপজেলা (হিতিমপাড়া ও গাড়াবাড়িয়া গ্রাম), ভৈরব নদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রহমান (৮০), মো. ইমরান হোসেন, সাকিব হাসান, হাবিবুর রহমান, তাজ উদ্দিন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ১১ দলীয় ঐক্যজোট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!