📌 ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে জাতীয়তাবাদী বিপ্লবের সূচনা করেন। এই দিনে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের সংগ্রামের ইতিহাস রচিত হয়
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দিনে সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকরা দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার রক্ষায় বিপ্লবী পদক্ষেপ নেন। এই দিনে তৎকালীন শাসকদলের অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহিরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলে দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ নভেম্বর ১৯৭৫: ঢাকা সেনানিবাসের সাধারণ সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে জাতীয়তাবাদী বিপ্লবের সূচনা করেন
- 📌 ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে, কিন্তু বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুদের গোপন চক্রান্তের অংশ ছিল তা
- 📌 জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়, কিন্তু ৬ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর রাতে সিপাহিরা তাঁকে মুক্ত করে
- 📌 সিপাহিরা ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়াউর রহমানের মুক্তি চাই’ স্লোগানে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁকে সেনানিবাসে নিয়ে আসেন
- 📌 মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনানিবাসের সৈনিক ও সাধারণ মানুষ ঘিরে উল্লাসে ফেটে পড়েন
📰 বিস্তারিত
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর, ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশটি গভীর সংকটে নিপতিত হয়। শাসকদলের দুঃশাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, গণতন্ত্রের অবনতি এবং বিদেশি আধিপত্যবাদের চক্রান্তের কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তি হুমকির মুখে পড়ে। তৎকালীন শাসকদল ও রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, নারকীয় হত্যাযজ্ঞ এবং পররাষ্ট্রনীতিতে নতজানু অবস্থান দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তাদের কুৎসিত নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। তবে এই অভ্যুত্থান ছিল সাধারণ সৈনিকদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বিদেশি প্রভুদের গোপন নির্দেশের অংশ।
সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও নীতিমান সেনা কর্মকর্তা। তাঁকে গৃহবন্দী করা হয় কারণ তিনি বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুদের অসাংবিধানিক পদক্ষেপে সায় না দিতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের নাম শুনেই দেশবাসীর মধ্যে মুক্তির আশা জাগে। লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, ‘আমজনতা পথের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস করে, হাততালি দেয় এবং অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর ট্রাকে চড়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।’
৬ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর রাতে ঢাকা সেনানিবাসের সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে। সিপাহিরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়াউর রহমানের মুক্তি চাই’ স্লোগানে রাজপথ ও ব্যারাক মুখর করে তোলে। অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তারা তাঁদের প্রিয় জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে আনেন। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান যখন সেনানিবাসে বের হয়ে এলেন, হাজার হাজার সাধারণ সৈনিক ও সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে উল্লাসে ফেটে পড়েন।
"৩ নভেম্বরের ক্যু কোনো জনমুখী অভ্যুত্থান ছিল না; এটি ছিল একটি উচ্চাভিলাষী সামরিক পদক্ষেপ, যা সাধারণ সৈনিকদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল।"
— বিখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, বাংলাদেশ: আ লিগ্যাসি অব ব্লাড থেকে
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা সেনানিবাস, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেনারেল জিয়াউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ নভেম্বর ১৯৭৫, ৩ নভেম্বর ১৯৭৫, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!