📌 প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে জানান, জনকল্যাণমুখী সংস্কার ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জ্বালানি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা, স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন
ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনকল্যাণমুখী সংস্কার ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে সরকার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার গঠনের ১৮০ দিন পূর্তিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেস উইং-এর আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানি সংকট সমাধানে ফলপ্রসূ আলোচনা
- 📌 মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি আলাপে পেট্রোনাসের সহায়তায় গ্যাস সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি
- 📌 প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
- 📌 দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদান
- 📌 আগামী বছর থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যুক্ত এবং মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা নিশ্চিত
- 📌 রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত সেবামূলক পুলিশ ও প্রশাসন গঠন এবং শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি
- 📌 শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে প্রত্যর্পণের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে আবেদন
- 📌 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া দেশের জন্য গৌরবের বিষয়
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, সরকার গঠনের পর থেকে জনকল্যাণমুখী সংস্কার ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি আলাপের মাধ্যমে পেট্রোনাসের সহায়তায় গ্যাস সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতের পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী বছর থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত সেবামূলক পুলিশ ও প্রশাসন গঠন করেছে। শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার আসামিকে বহু বছর পর গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, ফ্যাসিস্ট ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে ইতোমধ্যে আবেদন জানানো হয়েছে।
"সবার আগে বাংলাদেশ" নীতির আলোকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে সমতা ও মর্যাদার সম্পর্ক গড়া হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া দেশকে গৌরবান্বিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিআইপি সংস্কৃতি ভেঙে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে তৃণমূলে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।"
মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ, পতিত কলকারখানা চালু, বন্ধ বন্দর সচল রাখা ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহদী আমিন, তারেক রহমান, আনোয়ার ইব্রাহিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮০ দিন, ১৫১ শয্যা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!