📌 বাংলাদেশি নাবিক আমান উল্লাহ হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত জাহাজ ‘এমভি কেপ দাও’ থেকে বেঁচে গেলেন। ২৭ নাবিকের মধ্যে একমাত্র তিনি বেঁচে যান যিনি নিজের চোখে দেখলেন যুদ্ধের মতো ভয়াবহ দৃশ্য। ২৪ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ১ জন নাবিক নিহত হন এবং সুরজ যাদবের মতো অনেকের মৃত্যু হয়
হরমুজ প্রণালির যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে বেঁচে গেলেন বাংলাদেশের একজন নাবিক। বাংলাদেশি মো. আমান উল্লাহ ২৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত জাহাজ ‘এমভি কেপ দাও’ থেকে বেঁচে যান। এই দুর্ঘটনায় মারা যান একজন নাবিক এবং আমান উল্লাহ সহ ২৭ জন নাবিকের মধ্যে তিনি একমাত্র বেঁচে যান যিনি নিজের চোখে দেখলেন যুদ্ধের মতো ভয়াবহ দৃশ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত জাহাজ ‘এমভি কেপ দাও’-এ আগুন ধরে মারা যান একজন নাবিক, বেঁচে যান ২৭ জনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাবিক আমান উল্লাহ।
- 📌 আমান উল্লাহের মতে, হামলার মুহূর্তে ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ছিটকে পড়েন এবং দেখলেন নাবিক সুরজ যাদবের মৃতদেহ।
- 📌 জাহাজের আবাসিক অংশ ও ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে গেলে আমান উল্লাহের কেবিনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রের মধ্যে পড়েন, কিন্তু বেরিয়ে আসতে পারেননি।
- 📌 ৪৫ মিনিট পর ওমানের নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী নৌযান এসে উদ্ধার করে ২৭ জন নাবিককে।
- 📌 আমান উল্লাহ বলেন, ‘একাত্তরে মায়ের কোলে যুদ্ধ থেকে বেঁচেছিলাম, এবার নিজের চোখে দেখলাম আরেক ধরনের যুদ্ধ’।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশি নাবিক আমান উল্লাহের কাছে হরমুজ প্রণালির এই ঘটনা ছিল জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘একাত্তরে মায়ের কোলে যুদ্ধ থেকে বেঁচেছিলাম, এবার নিজের চোখে দেখলাম আরেক ধরনের যুদ্ধ’। ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে জাহাজ ‘এমভি কেপ দাও’ হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বিস্ফোরণে জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং চারদিকে অন্ধকার, ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
আমান উল্লাহ ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ছিটকে পড়েন এবং দেখেন নাবিক সুরজ যাদবের মৃতদেহ। তিনি বলেন, ‘আমি সোফায় বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, হঠাৎ পুরো জাহাজ কেঁপে উঠল। বিকট বিস্ফোরণে আমাকে সোফা থেকে ছিটকে পড়তে হয়। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চারদিকে অন্ধকার, ধোঁয়া, পোড়া গন্ধ আর নাবিকদের চিৎকার।’
আমান উল্লাহের কেবিনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রের মধ্যে পড়েন, কিন্তু আগুনের তাপ ও ধোঁয়ার কারণে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি কেবিনে পাসপোর্ট, অর্থকড়ি, ব্যক্তিগত কাগজপত্র, ল্যাপটপ, এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কসহ সব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে ছিলাম। কিন্তু আগুনের তাপে কেবিনে ঢুকতে পারলাম না।’
আমান উল্লাহের মতে, এই ঘটনার সময় তিনি মনে করতেন, ‘হয়তো আর যোগাযোগ করতে পারব না’। তিনি তার বড় ছেলে সাকিবকে অডিও বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘আমাদের জন্য দোয়া করতে বললাম’। তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম ১৯৭১ সালে। যুদ্ধের সময় আমার মা আমাকে কোলে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে বেড়িয়েছেন। ছোটবেলায় মায়ের মুখে সেই যুদ্ধের গল্প শুনেছি। এবার নিজের চোখে আরেক ধরনের যুদ্ধ দেখলাম।’
"আমি মনে করতাম, হয়তো আর বাঁচব না। কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের বাইরে বের হলাম। তারপর সামনের দিকে ছুটে গেলাম। পথেই দেখি নিথর পড়ে আছে সুরজের দেহ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, ভারতের দিকে যাত্রারত জাহাজ ‘এমভি কেপ দাও’
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশি নাবিক আমান উল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ জন নাবিকের মধ্যে একজন বেঁচে গেলেন, ১ জন নিহত হন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!