📋 জীবনী
জহির উদ্দীন স্বপন (Zahir Uddin Swapon, জন্ম - ২৯ জুন, ১৯৬০)> একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করেন এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১৯৯৬) এবং ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০১) বরিশাল-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দুইবারই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পাশাপাশি তিনি বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন।
প্রাথমিক জীবন
স্বপন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তিনি সরকারি ব্রজলাল কলেজের ভিপি ছিলেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
ছাত্র রাজনীতি
ছাত্রাবস্থায় জহির উদ্দিন স্বপন বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। এর পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন, যা পরবর্তীতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতন ঘটায়।
বিএনপির কর্মজীবন এবং সাংগঠনিক ভূমিকা
জহির উদ্দিন স্বপন ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যোগদান করেন এবং খুব দ্রুতই তার গণমাধ্যম এবং যোগাযোগ দক্ষতার কারণে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপি মিডিয়া সেল প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সময়ের সাথে সাথে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ট হয়ে ওঠেন এবং তাঁর উপদেষ্টা কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি বিএনপির কমিউনিকেশন সেলের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ এন্ড কমিউনিকেশনের (বিএনআরসি) পরিচালক ছিলেন। বিরোধী দলীয় আন্দোলন ও প্রচারণার সময় দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে তিনি নিয়মিত গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং যোগাযোগ কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখতেন। ২০২৪ সালে তিনি দলের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হন। দলীয় উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ছিলেন।
সাংসদীয় সময়কাল
জহির উদ্দিন স্বপন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন থেকে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন। স্বল্পস্থায়ী ষষ্ঠ সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর তিনি ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পুনর্নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে জহির উদ্দিন স্বপন দুইবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করা আইনপ্রণেতাদের নির্দলীয় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)-এর এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয় ও মন্ত্রিসভায় নিয়োগ
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি জহির উদ্দিন স্বপনকে বরিশাল-১ আসনে মনোনয়ন দেয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১,০০,৫৫২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে আসনটিতে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম খান ৪৬,২৬৩ ভোট পান; ফলে তিনি ৫৪,২৮৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিধস বিজয়ের পর জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভার জন্য মনোনীত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতাদের মাঝে একজন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার এই নিয়োগে নিজ নির্বাচনী এলাকা ও দলের অভ্যন্তরে উৎসাহমূলক ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল 




