📌 বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ব্র্যান্ড নাইকি ২৩০ বিলিয়ন ডলারের লোকসান হচ্ছে। শেয়ারবাজারে বিপুল পতন, কর্মী ছাঁটাই এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি গভীর সংকটে পড়েছে। বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, নাইকির বিপত্তির মূল কারণ হলো গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার মতো উদ্ভাবনী পণ্য তৈরিতে ব্যর্থতা এবং বিপণন কৌশলের ভুল
বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ক্রীড়া ব্র্যান্ড নাইকি (Nike) ২৩০ বিলিয়ন ডলারের লোকসান হচ্ছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। নাইকির শেয়ারবাজারে বিপুল পতন, কর্মী ছাঁটাই এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সাম্রাজ্য পতনের পথে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাইকির সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নেট মুনাফা ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ডলারে এবং রাজস্ব ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারে।
- 📌 শেয়ারবাজারে নাইকির শেয়ারের দাম সর্বশেষ নিউইয়র্কে আফটার-আওয়ার্স ট্রেডিংয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ পড়ে যায়। পাঁচ বছরে শেয়ারমূল্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে।
- 📌 নাইকি এখনো ‘এসঅ্যান্ডপি ১০০’ সূচক থেকে বাদ পড়েছে এবং শীর্ষ ১০০ মার্কিন কোম্পানির তালিকায় স্থান হারিয়েছে।
- 📌 বিশ্লেষকদের মতে, নাইকির মূল সমস্যা হলো নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য তৈরিতে ব্যর্থতা। বিশেষ করে ‘নাইকি স্পোর্টসওয়্যার’ এবং ‘জর্ডান’ ব্র্যান্ডের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
- 📌 সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কনভার্স’-এর রাজস্ব সাম্প্রতিক প্রান্তিকে কমেছে ২৮ শতাংশ।
- 📌 নাইকির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বাজার চীনে বিক্রি মারাত্মকভাবে কমেছে ২২ থেকে ২৬ শতাংশ।
📰 বিস্তারিত
নাইকি বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে একসময় একচ্ছত্র ছিল। বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের সঙ্গে চুক্তি, মনে রাখার মতো বিজ্ঞাপন এবং বিখ্যাত ‘জাস্ট ডু ইট’ স্লোগান ছিল প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তবে বর্তমানে সেই বিখ্যাত স্লোগানটি এক চরম ট্র্যাজেডির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিক্রিতে বড় ধস, শেয়ারবাজারে বিপুল পতন এবং হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে নাইকি গভীর সংকটে পড়েছে।
নাইকির সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নেট মুনাফা ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ডলারে এবং রাজস্ব ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই নিউইয়র্কে আফটার-আওয়ার্স ট্রেডিংয়ে নাইকির শেয়ারের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ পড়ে যায়। পাঁচ বছরে কোম্পানিটি তার শেয়ারমূল্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ হারিয়েছে। সর্বোচ্চ শিখর থেকে এ পর্যন্ত নাইকির বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার মুছে গেছে।
নাইকির এই বিপত্তির পেছনে তাদের বিপণন কৌশলকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক প্রধান নির্বাহী জন ডোনাহোর অধীনে নাইকি ‘ডিরেক্ট-টু-কনজিউমার’ (ডিটিসি) মডেলে অতিরিক্ত ঝুঁকিয়ে পড়ে। তারা সাধারণ খুচরা বিক্রেতা ও স্টোরগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কেবল নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অ্যাপে পণ্য বিক্রি জোরদার করে। এর ফলে সাধারণ সুপারশপ ও দোকানে নাইকির উপস্থিতি কমে যায়, আর সেই খালি জায়গা দখল করে নেয় ‘অন’ বা ‘হোকা’-র মতো নতুন ব্র্যান্ডগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইকির মূল সমস্যা হলো নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য তৈরিতে ব্যর্থতা। বিশেষ করে ‘নাইকি স্পোর্টসওয়্যার’ এবং ‘জর্ডান’ ব্র্যান্ডের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কনভার্স’-এর রাজস্ব সাম্প্রতিক প্রান্তিকে কমেছে ২৮ শতাংশ। একসময় নাইকির এয়ার ফোর্স ১, ডাঙ্ক কিংবা এয়ার জর্ডানের মতো জুতা কেবল অ্যাথলেটদের ব্যবহার্য ছিল না, এগুলো হয়ে উঠেছিল তরুণ প্রজন্মের সামাজিক মর্যাদা ও ফ্যাশনের প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইজারল্যান্ডের ‘অন রানিং’ এবং ‘হোকা’-এর মতো উদীয়মান ব্র্যান্ডগুলো দৌড়বিদ ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
“তারা পণ্যের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বেশি নজর দিতে গিয়ে মূল উদ্ভাবনে (আর অ্যান্ড ডি) লাগাম টেনে ধরেছিল। কেউ কেউ মশকরা করে বলতেন, নাইকি নাকি নিজেকে ‘ইবে’ (eBay)-তে পরিণত করতে চাচ্ছে।”
নাইকির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বিশ্বমঞ্চের তারকাদের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক। আশির দশকে বাস্কেটবল তারকা মাইকেল জর্ডানের সঙ্গে চুক্তি করে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাস গড়েছিল নাইকি। পরবর্তীতে টাইগার উডস, সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা ছিলেন নাইকির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নাইকির সেই জৌলুশে বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২৪ সালে টাইগার উডস নাইকির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানেন। এরপর সবচেয়ে বড় চমক আসে যখন ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে নাইকির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে সুইস প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ড ‘অন’-এ যোগ দেন। এর কিছুদিন আগেই তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল নাইকি ছেড়ে যোগ দেন ‘অ্যাডিডাস’-এ। এমবাপ্পের এই বিদায় নাইকির জন্য বড় মানসিক ও ব্যবসায়িক আঘাত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (শেয়ারবাজার), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (নাইকির সদর দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম্যাট পাওয়েল (স্পোর্টস খুচরা শিল্প বিশ্লেষক), জন ডোনাহো (সাবেক প্রধান নির্বাহী), এলিয়ট হিল (বর্তমান সিইও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩০ বিলিয়ন ডলার (লোকসান), ৭৫ শতাংশ (শেয়ারমূল্যের হ্রাস), ২৩ হাজার কোটি ডলার (মুছে যাওয়া বাজারমূল্য), ২৮ শতাংশ (কনভার্সের রাজস্ব হ্রাস), ২২-২৬ শতাংশ (চীনে বিক্রির হ্রাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!