📌 CCCF-এর আয়োজনে ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা ২০২৬ — ১০ জন ক্যানসারজয়ীকে সম্মাননা। সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু বিশেষ সম্মাননা পান। প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাই।
ক্যানসার শুধু একটি রোগের নাম নয় — এটি সাহস, বেদনা আর আশারও গল্প। মৃত্যুভয়কে জয় করে নতুন জীবনে ফেরা কিছু মানুষের অনুপ্রেরণাময় পথচলাকে সম্মান জানাতেই সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (CCCF)-এর আয়োজনে 'ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা প্রদান-২০২৬' অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ক্যানসারে প্রয়াতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মঞ্চে একে একে ওঠেন ১০ জন ক্যানসারজয়ী — শিক্ষক, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, লেখক, সমাজকর্মী — তাঁদের সবার পরিচয় এক, তাঁরা জীবনের কাছে হার মানেননি। বিশেষ সম্মাননা পান সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু — বাবা-মা উভয়ের ক্যানসার পরিচর্যা ও মানবিক পথচলার জন্য।
🔴 মূল পয়েন্ত
- 📌 আয়োজক: সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (CCCF) — ৩ বছরের পথচলা।
- 📌 অনুষ্ঠান: 'ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা প্রদান-২০২৬' — আর সি মজুমদার মিলনায়তন।
- 📌 সম্মাননাপ্রাপ্ত (১০ জন): ড. মারুফী খান, সেলিনা আহমেদ, মো. আবদুল গফফার, ফরিদা ইয়াসমিন, কাজী সুফিয়া আখতার, সিফাত আরেফিন প্রতীক, মনিরা ফারজানা আফরোজ তানিয়া, রায়না মাহমুদ, কানিজ হায়দার, ফারজানা আলী লাবণী।
- 📌 বিশেষ সম্মাননা: জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু (সাংবাদিক) — কেয়ারগিভার হিসেবে দীর্ঘ মানবিক পথচলা; বাবা-মা উভয় ক্যানসার আক্রান্ত।
- 📌 প্রধান অতিথি: অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাই — প্রখ্যাত অনকোলজিস্ট।
- 📌 বিশেষ অতিথি: অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার — "সার্ভাইভার নয়, ক্যানসার বিজয়ী"।
- 📌 অন্য বক্তা: অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী — স্ত্রীর ক্যানসার চিকিৎসাকালীন কেয়ারগিভার অভিজ্ঞতা।
- 📌 স্বেচ্ছাসেবক সনদ: 'ওয়ার্কশপ অন হাইজিন অ্যান্ড ফার্স্ট এইড', 'মেন্টাল ফার্স্ট এইড', 'সোশ্যাল সার্ভিসেস গ্রান্ট অ্যাসিস্ট্যান্স' — মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে সরকারি অনুদান আবেদন সহায়তাকারী।
- 📌 প্রকাশনা: 'এখানে থেমো না' বই।
📰 বিস্তারিত
ক্যানসার এমন একটি শব্দ, যা মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে একজন মানুষের পুরো জীবন। কিন্তু সব গল্প শেষ হয় না পরাজয়ে — কেউ কেউ মৃত্যুভয়কে জয় করে ফিরে আসেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। তাঁদের সেই অসাধারণ যাত্রাকে সম্মান জানাতেই সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (CCCF) আয়োজন করে 'ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা প্রদান-২০২৬'। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ক্যানসারে প্রয়াতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় — মুহূর্তেই পুরো মিলনায়তনে নেমে আসে গভীর নীরবতা, যা একসঙ্গে ধারণ করেছিল অসংখ্য পরিবারের অশ্রু, অপূর্ণ গল্প আর একই সঙ্গে জীবনের প্রতি অটুট বিশ্বাস।
এরপর একে একে মঞ্চে ওঠেন ক্যানসারজয়ীরা — প্রত্যেকের সংগ্রাম আলাদা, জীবনযুদ্ধের গল্পও ভিন্ন। কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ লেখক, কেউ সমাজকর্মী — কিন্তু তাঁদের সবার পরিচয় এক, তাঁরা জীবনের কাছে হার মানেননি। সম্মাননা গ্রহণ করেন ড. মারুফী খান, সেলিনা আহমেদ, মো. আবদুল গফফার, ফরিদা ইয়াসমিন, কাজী সুফিয়া আখতার, সিফাত আরেফিন প্রতীক, মনিরা ফারজানা আফরোজ তানিয়া, রায়না মাহমুদ, কানিজ হায়দার এবং ফারজানা আলী লাবণী।
🌟 বিশেষ সম্মাননা — জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা পান সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু — এই স্বীকৃতি শুধু তাঁর পেশাগত পরিচয়ের জন্য নয়, বরং একজন কেয়ারগিভার হিসেবে দীর্ঘ মানবিক পথচলার জন্য। তাঁর বাবা ও মা—দুজনই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন — তাঁদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে পাশে ছিলেন তিনি। খুব কাছ থেকে দেখেছেন, ক্যানসার শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো পরিবারকেই কীভাবে বদলে দেয়। বাবা-মাকে হারানোর গভীর শোক তাঁকে ভেঙে দেয়নি; বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে অসংখ্য ক্যানসার রোগী ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
⚕️ বক্তাদের মন্তব্য
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দেশের প্রখ্যাত অনকোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাইরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন — দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন বহু রোগীকে তিনি দেখেছেন, যাঁদের চিকিৎসা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, অথচ তাঁরা আশ্চর্যজনকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের জীবনে কিছু বিষয় ছিল অভিন্ন — স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ কমিয়ে রাখা, হতাশা থেকে বেরিয়ে আসা এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গভীর আত্মিক সম্পর্ক।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার বলেন, "সার্ভাইভার" নয়, তাঁদের বলা উচিত "ক্যানসার বিজয়ী" — কারণ তাঁরা শুধু বেঁচে নেই, তাঁরা যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন — স্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসাকালীন একজন পরিচর্যাকারী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি বলেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু চিকিৎসকের নয়; এটি পরিবার, বন্ধু, স্বেচ্ছাসেবক এবং পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
🤝 স্বেচ্ছাসেবক সম্মাননা ও CCCF-এর কার্যক্রম
এই আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা — 'ওয়ার্কশপ অন হাইজিন অ্যান্ড ফার্স্ট এইড', 'মেন্টাল ফার্স্ট এইড' এবং 'সোশ্যাল সার্ভিসেস গ্রান্ট অ্যাসিস্ট্যান্স' কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে সরকারি অনুদানের আবেদনপত্র পূরণে নিরলসভাবে কাজ করা একদল স্বেচ্ছাসেবককেও বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মাত্র তিন বছরের পথচলায় CCCF ক্যানসার সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগী ও কেয়ারগিভারদের কাউন্সেলিং, ব্রেস্ট সেল্ফ-এক্সামিনেশন প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক তৈরিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে — পাশাপাশি প্রকাশ করেছে 'এখানে থেমো না' শীর্ষক বই।
"'সার্ভাইভার' নয়, তাঁদের বলা উচিত 'ক্যানসার বিজয়ী' — কারণ তাঁরা শুধু বেঁচে নেই, তাঁরা যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন। ক্যানসার জীবনের একটি অধ্যায় হতে পারে, কিন্তু কখনোই পুরো জীবনের গল্প নয়।" — অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- আয়োজক: সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (CCCF) — ৩ বছরের পথচলা
- অনুষ্ঠান: 'ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা প্রদান-২০২৬'
- স্থান: আর সি মজুমদার মিলনায়তন
- প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫২ (হাল ফ্যাশন)
- লেখক: নাদিয়া ইসলাম
- সম্মাননাপ্রাপ্ত (১০): ড. মারুফী খান, সেলিনা আহমেদ, মো. আবদুল গফফার, ফরিদা ইয়াসমিন, কাজী সুফিয়া আখতার, সিফাত আরেফিন প্রতীক, মনিরা ফারজানা আফরোজ তানিয়া, রায়না মাহমুদ, কানিজ হায়দার, ফারজানা আলী লাবণী
- বিশেষ সম্মাননা: জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু (সাংবাদিক, কেয়ারগিভার)
- প্রধান অতিথি: অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাই (অনকোলজিস্ট)
- বিশেষ অতিথি: অধ্যাপক ডা. হালিদা হানুম আখতার
- অন্য বক্তা: অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী
- স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি: হাইজিন অ্যান্ড ফার্স্ট এইড, মেন্টাল ফার্স্ট এইড, সোশ্যাল সার্ভিসেস গ্রান্ট অ্যাসিস্ট্যান্স
- প্রকাশনা: 'এখানে থেমো না' বই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!