📌 বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার সাব রেজিস্টারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিবাহ তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাবে। পাশাপাশি পুলিশ ভেরিফিকেশনে ঘুষ দাবির বিরুদ্ধে ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় ডিজিটাল বিপ্লবের অংশ হিসেবে ঢাকার সাব রেজিস্টারদের কর্মস্থল বদলির জন্য লটারি পোস্টিং ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই ব্যবস্থা দেশের বিবাহ নিবন্ধন তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার সাথে মিলে যাবে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত অনলাইন কর্মশালায় তিনি এসব তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লটারি পোস্টিং: ঢাকার সাব রেজিস্টারদের কর্মস্থল বদলির জন্য লটারি ব্যবস্থা চালু করা হবে।
- 📌 ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধন: বিবাহ তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাবে।
- 📌 কেন্দ্রীয় যাচাই: অনলাইনে বিবাহ তথ্য সংরক্ষণ করলে একজন ব্যক্তির পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।
- 📌 বিরোধ কমবে: মৃত্যুর পর সন্তান বা স্ত্রীর দাবি নিয়ে মামলা কমতে পারে।
- 📌 বিদেশী যাত্রীদের সুবিধা: বিদেশে যাওয়ার সময় বিবাহ তথ্য অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব হবে।
- 📌 ঘুষ দাবির বিরুদ্ধে: আইনমন্ত্রী শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় পুলিশ ভেরিফিকেশনে ঘুষ দাবির ঘটনা উল্লেখ করেন।
- 📌 ডিজিটাল সংযোগ: জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্য বিবাহ নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
📰 বিস্তারিত
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালায়নের অংশ হিসেবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকার সাব রেজিস্টারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তাদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকার মধ্যে সাব রেজিস্টারদের পোস্টিং লটারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, "এই পদক্ষেপ নিয়মনীতি অনুসরণ করে নেওয়া হবে।"
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে এই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, "এইভাবে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হবে।"
বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে অনলাইন বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে বলে আইনমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্যত্র আবার বিয়ে করতে চাইলে অনলাইনে তার আগের বিবাহের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টিও যাচাই করা সহজ হবে।"
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে তা যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের বিরোধ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমতে পারে এবং রাষ্ট্রের ওপরও চাপ কমবে।"
বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে বলে আইনমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অনলাইনে বিবাহের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।"
পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ঘুষ দাবির একটি ঘটনা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, "শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং পরে ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।"
আইনমন্ত্রী বলেন, "বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে যেভাবে সংযোগ রয়েছে, একইভাবে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও পর্যায়ক্রমে এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, "জন্মের পর শিশুর জন্মনিবন্ধন করা হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্য প্রয়োজন হয়। এভাবে একজন ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।"
"বিভিন্ন দেশে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হলে একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।'"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ব্র্যাক লার্নিং সেন্টার), শরীয়তপুরের নড়িয়া থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ অক্টোবর, ২ হাজার ২০০ টাকা, ২ হাজার টাকা, ৭০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!