📌 ফরিদপুরের বীথি আক্তার সিজারিয়ানের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়। দুই মাস পর গজ বের করা হলেও সংক্রমণ ও জটিলতা থেকে বাঁচতে চাইছেন তিনি। পরিবার দাবি করে, চিকিৎসকদের জোরপূর্বক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ানের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয় বীথি আক্তার (২৩)-এর। দুই মাস পর গজ কাপড় বের করা হলেও সংক্রমণ ও জটিলতা থেকে বাঁচতে চাইছেন তিনি। বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বীথি আক্তার সন্তানের জন্য চিকিৎসা দাবি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরের বীথি আক্তার সিজারিয়ানের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়, পরে গজ বের করা হলেও সংক্রমণ ও জটিলতা দেখা দেয়।
- 📌 বীথির পরিবার দাবি করে, অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক তামান্না আক্তারকে ৪০ হাজার টাকা আপস করে জোরপূর্বক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
- 📌 বীথির শরীরে হার্ট ব্লক, উচ্চ রক্তচাপ ও শরীরে কাঁপুনি দেখা দিয়েছে। পরিবার দাবি করে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু দাবি করেন, গজ কাপড় বের করা হয়নি এবং শুধু বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল।
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুটি কমিটি গঠন করেছে—একটি তদন্ত কমিটি ও অন্যটি মেডিকেল বোর্ড।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ফমেক) সিজারিয়ানের পর বীথি আক্তার (২৩) এর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়। পাঁচ মাস আগে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। বীথি আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাট জ্যোতিনবর্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফমেক হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চতুর্থ তলায় গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
বীথির পরিবার জানায়, তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ৬ মে ফমেক হাসপাতালে। অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু। পাঁচ দিন পরে বীথি বাড়ি যান। এরপর তার শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরিবার জানান, চিকিৎসকরা তাঁকে ‘গুরুতর কোনো সমস্যা হয়নি’ বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে প্রায় দেড় মাস পর বেসরকারি হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রামে তাঁর পেটের মধ্যে গজ পাওয়া যায়।
১২ জুলাই ফমেক হাসপাতালে ভর্তি হন বীথি। ১৫ জুলাই সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হক শোভন ও সঞ্জয় সাহা দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু পরিবার দাবি করে, এই সময় পেটের নাড়ি পচে সংক্রমণ দেখা দেয়। চিকিৎসক তামান্না আক্তারকে ডেকে ৪০ হাজার টাকা আপস করে জোরপূর্বক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। ২২ জুলাই বীথিকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ওই দিন জরুরিভাবে চার দিন আইসিইউতে চিকিৎসা চলে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি।
"আমাকে এখান থেকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমার সন্তানটার জন্য বাঁচতে চাই। আমার বাপ-মা ভিক্ষা করে হলেও চিকিৎসা করাবে।"
বীথির মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা দুটি পরিবারই নিঃস্ব হয়ে গেছি। কেউ এসে দেখলও না। এখন আর ডাক্তাররাও গুরুত্ব দিচ্ছে না। গতকাল থেকে মেয়ের অবস্থা ভালো না, ভালো চিকিৎসা না পেলে যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়ে দেন।'
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বীথির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন নয় এবং গজ কাপড় বের করা হয়নি। উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, সংক্রমণের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়ে হার্টে ব্লকসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়নি; শুধু বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বীথি আক্তার (২৩), মনোয়ারা বেগম, তামান্না আক্তার, মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ বছর বয়স, ৬ মে, ১২ জুলাই, ১৫ জুলাই, ৪০ হাজার টাকা, ২২ জুলাই, ২০ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!