📌 ত্রয়োদশ সংসদের এমপিদের মধ্যে দুজন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। গাজী নজরুল ইসলাম নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, অন্যদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন। সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার আইনি শর্তাবলী ও অতীতের ঘটনাবলী নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার প্রায় সাত মাসে দুজন সংসদ সদস্য বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের পরিণতি সম্পূর্ণ আলাদা। একজন হলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, যিনি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য পদে বর্তমান। অন্যজন হলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেন। এই ঘটনাগুলো নতুন নয়—অতীতেও এমপিদের বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজী নজরুল ইসলাম নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য পদে বর্তমান
- 📌 ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেন মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায়
- 📌 সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার ১০টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে
- 📌 ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলবদল বা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে এমপির পদ বাতিল হতে পারে
- 📌 অতীতে অন্তত পাঁচজন এমপির আসন শূন্য হয়েছে, চারজন দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে
- 📌 লতিফ সিদ্দিকী ও মুরাদ হাসান বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পদত্যাগ ও বহিষ্কৃত হন
📰 বিস্তারিত
গাজী নজরুল ইসলামের বর্তমান অবস্থা হলো কারাগারে থাকা। তিনি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য পদে বর্তমান। অন্যদিকে, বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেন।
সংসদ সদস্যদের বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা পদত্যাগের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার ১০টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, শপথ না নেওয়া, ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নেওয়া, সংসদের অনুমতি ছাড়া ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকা, দেউলিয়া ঘোষিত হওয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন করা, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ইত্যাদি।
অতীতের ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হন। একই দিন তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। পরে ২৪ অক্টোবর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান অশ্লীল মন্তব্যের জন্য পদত্যাগ করেন।
"সংসদ সদস্যের আসন কী কারণে বা কখন শূন্য হবে, তার উল্লেখ আছে সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদে। সেই কারণ বা পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে আছে, যদি নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তিনি শপথ নিতে ব্যর্থ হন; যদি সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি অধিবেশনে টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকেন; যদি সংসদ ভেঙে যায়; যদি আদালত তাঁকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন; দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পেয়ে থাকেন; কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন কিংবা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন ও তাঁর মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিরপুর), নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাজী নজরুল ইসলাম, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, লতিফ সিদ্দিকী, মুরাদ হাসান, তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭ (সংবিধানের অনুচ্ছেদ), ৭০ (সংবিধানের অনুচ্ছেদ), ৯০ (দিন/কার্যদিবস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!