📌 থাইরয়েডের নডিউল বা গোটা ছাড়াই আধুনিক তাপপ্রয়োগ পদ্ধতি (থার্মাল অ্যাব্লেশন) ব্যবহার করে বাংলাদেশে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে নডিউলের আকার কমানো হয়, যা কাটাছেঁড়া ছাড়াই নিরাপদ ও দ্রুত সুস্থতা দেয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু হাসপাতালে এ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে
থাইরয়েডের নডিউল বা গোটা নিয়ে অস্বস্তি বা চাপের সমস্যা হলে এখন বাংলাদেশেও কাটাছেঁড়া ছাড়াই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব। এই পদ্ধতির নাম থার্মাল অ্যাব্লেশন, যেখানে তাপের মাধ্যমে নডিউলের আকার কমানো হয়। এতে গলায় কাটা বা অপারেশনের দাগের আশঙ্কা কমে যায় এবং থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 থার্মাল অ্যাব্লেশন পদ্ধতিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে থাইরয়েডের নডিউলের আকার কমানো হয়, যা কাটাছেঁড়া ছাড়াই করা যায়।
- 📌 আলট্রাসনোগ্রামের সাহায্যে সরু সুচের মতো যন্ত্রের মাধ্যমে নডিউলের নির্দিষ্ট অংশে নিয়ন্ত্রিত তাপ প্রয়োগ করা হয়, যা ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শোষিত হয়।
- 📌 সুবিধা: অপারেশনের দৃশ্যমান দাগ না হওয়া, রক্তপাতের ঝুঁকি না থাকা, হাসপাতালে কম সময় থাকা, এবং থাইরয়েডের সুস্থ অংশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।
- 📌 প্রযোজ্য রোগী: যাদের থাইরয়েড নডিউল ক্যানসার নয়, কিন্তু গোটার কারণে গিলতে সমস্যা, গলায় চাপ, শ্বাস নিতে কষ্ট বা সৌন্দর্যগত সমস্যা রয়েছে।
- 📌 ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে এ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, তবে চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির মান যাচাই করা জরুরি।
📰 বিস্তারিত
থাইরয়েডের নডিউল বা গোটা নিয়ে অনেকেরই আতঙ্ক থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার নয় এবং কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয় না। যদিও কিছু গোটা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং গিলতে সমস্যা, গলায় চাপ, শ্বাস নিতে কষ্ট বা সৌন্দর্যে সমস্যা সৃষ্টি করে। এ সময় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে থাইরয়েডের নডিউলের আকার কমানো সম্ভব। এই পদ্ধতির নাম থার্মাল অ্যাব্লেশন বা তাপপ্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা।
থার্মাল অ্যাব্লেশনের মধ্যে রয়েছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাব্লেশন ও মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাব্লেশনে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে তাপ তৈরি করা হয়, আর মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশনে মাইক্রোওয়েভ শক্তি ব্যবহার করে তাপ উৎপন্ন করা হয়। কখনো কখনো লেজারও ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে আলট্রাসনোগ্রামের সাহায্যে খুব সরু একটি সুচের মতো যন্ত্র থাইরয়েডের নডিউলের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। এরপর নিয়ন্ত্রিত তাপের মাধ্যমে নডিউলের নির্দিষ্ট অংশ চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। চিকিৎসা করা অংশ ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শোষিত হয় এবং সময়ের সঙ্গে নডিউলের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো, সাধারণত গলায় বড় করে কাটতে হয় না। ফলে অপারেশনের দৃশ্যমান দাগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। থাইরয়েডের সুস্থ অংশ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা যায়। রক্তপাতের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করে স্থানীয়ভাবে অবশ করে চিকিৎসাটি করা সম্ভব। হাসপাতালে থাকার সময়ও তুলনামূলকভাবে কম এবং দ্রুত স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারেন রোগী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পূর্ণ থাইরয়েড অপসারণ না করে শুধু নডিউলকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা করা যায়। ফলে থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার সুযোগ থাকে।
"থাইরয়েডের বাকি অংশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে অপারেশনের পর আজীবন থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন না-ও হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন পদ্ধতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!