📌 যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। অভিযোগে শিক্ষক ছাত্রীকে শরীর স্পর্শ করতেন এবং অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। ছাত্রীদের প্রতিবাদে পুলিশ তাকে আটক করে ল্যাপটপসহ জব্দ করে
যশোরের মনিরামপুরে একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষককে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন ও আন্দোলনের মুখে থানা-পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক ছাত্রীকে শরীর স্পর্শ করতেন এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করতেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।
- 📌 ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষক তার শরীর স্পর্শ করেছেন।
- 📌 ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পেয়েছিল বিদ্যালয়, তাকে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 ছাত্রীদের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়ার পর ইউএনও ও পুলিশ বিদ্যালয়ে আসে এবং শিক্ষককে আটক করে।
- 📌 পুলিশ শিক্ষকের বাসায় গিয়ে ল্যাপটপসহ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করেছে।
- 📌 মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম পুলিশ হেফাজতে আছেন।
- 📌 মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তর প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
📰 বিস্তারিত
মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছিরুদ্দিন গত রোববার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, আজ সোমবার ভুক্তভোগী ছাত্রী ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ছাত্রীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষক তার শরীর স্পর্শ করেছেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পেয়েছিল বিদ্যালয়। তাকে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল এবং ভেতরগতভাবে শুধরানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু আজ বিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনকে জানানো হয়েছে।
ছাত্রীদের প্রতিবাদে সকালে সমাবেশ শেষে তারা ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়। পরে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কিছু ছাত্রী কথা বলে। এরপর ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও পুলিশ বিদ্যালয়ে আসে। পুলিশ ইকরামুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় যায় এবং সেখান থেকে ল্যাপটপসহ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকরামুল ইসলাম প্রাইভেট পড়ানোর ছলে ছাত্রীকে টার্গেট করতেন। তারপর অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করতেন। ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে নিয়মিত ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করতেন। বিষয়টি জানাজানি করলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন এবং তাকে স্কুলের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ভয় দেখাতেন।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম আমাদের হেফাজতে আছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে জানতে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনকে একাধিকবার কল করা হয়েছে, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস-আর-রেজা বলেছেন, বিষয়টি জানার পর আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে তলব করেছি। প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তাকে বহিষ্কার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"গতকাল রোববার আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। এরপর আজ সোমবার ভুক্তভোগী ছাত্রী ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। ছাত্রীর অভিযোগ, ওই শিক্ষক তার শরীর স্পর্শ করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মনিরামপুর, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইকরামুল ইসলাম (শিক্ষক), তছিরুদ্দিন (প্রধান শিক্ষক), সম্রাট হোসেন (ইউএনও), আবু সাঈদ (ওসি), প্রফেসর ড. মো. আনিস-আর-রেজা (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ দিন (পদ্মা নদীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের সাথে সম্পর্কিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!