📌 ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ নৌপ্রবেশের চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক সম্মেলন স্থগিত হলে সমাধান বিলম্বিত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিবাদ ও হুথি হামলার কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ইরান বলেছে, চুক্তি অনুমোদনের জন্য ওমানের সাথে পরামর্শ চলছে
হরমুজ নৌপ্রবেশের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের আঞ্চলিক সম্মেলন স্থগিত হলে আঞ্চলিক জলপথে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের সমাধান বিলম্বিত হয়েছে। ইরান, ইরাক ও গলফ কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সোমবার ওমানের সালালা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়া আলোচনা শেষ মুহুর্তে বাতিল হয়ে যায়। ইরান ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ নৌপ্রবেশের জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হরমুজ নৌপ্রবেশের সমাধান বিলম্বিত: ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক সম্মেলন স্থগিত হলে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের পথ নির্ধারণে বিলম্ব ঘটেছে।
- 📌 সৌদি আরবের প্রতিবাদ: সৌদি আরবের প্রতিবাদই এই সম্মেলন স্থগিতের প্রধান কারণ। সৌদি আরবের প্রস্তাবিত শর্তাবলি ইরানের সাথে ওমানের চুক্তির শর্তাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 হুথি হামলা ও ইরাকি মিলিশিয়া আক্রমণ: সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথি মিসাইল ও ড্রোন হামলা এবং ইরাকি মিলিশিয়ার ড্রোন আক্রমণে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেলপাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়।
- 📌 ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরান বলেছে, হরমুজ নৌপ্রবেশের জন্য ওমানের সাথে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ওমানের সাথে পরামর্শ করা হবে।
- 📌 আমেরিকার নৌব্লকেড: ইরান বলেছে, হরমুজ নৌপ্রবেশের সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকার নৌব্লকেড তুলে নেওয়া এবং জুন মাসের চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ নৌপ্রবেশের জন্য চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সোমবার ওমানের সালালা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়া আঞ্চলিক সম্মেলন শেষ মুহুর্তে স্থগিত করা হয়। ইরান, ইরাক ও গলফ কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সৌদি আরবের প্রতিবাদ এবং হুথি মিসাইল হামলার কারণে সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়।
সৌদি আরবের প্রতিবাদই এই সম্মেলন স্থগিতের প্রধান কারণ বলে ইরানের বৈদেশিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রস্তাবিত শর্তাবলি ইরানের সাথে ওমানের চুক্তির শর্তাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হচ্ছে। সৌদি আরবের প্রতিবাদে ইরান ও ওমানের চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথি মিসাইল ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেলপাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। হুথি বলেছে, তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবে কামিস মুশাইত শহরে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস্মাইল বাগহাই বলেছেন, ওমানের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, “ওমানের সাথে পরামর্শ করে, পরবর্তী পদক্ষেপে আমরা চুক্তি ঘোষণা বা নিবন্ধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
ইরান বলেছে, হরমুজ নৌপ্রবেশের সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকার নৌব্লকেড তুলে নেওয়া এবং জুন মাসের চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার প্রয়োজন। ইরান বলেছে, তারা আমেরিকার সাথে হরমুজ নৌপ্রবেশের বিষয়ে আলোচনা করবে, শুধুমাত্র আমেরিকা নৌব্লকেড তুলে নিলে।
"ওমানের সাথে পরামর্শ করে, পরবর্তী পদক্ষেপে আমরা চুক্তি ঘোষণা বা নিবন্ধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।"
মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষক আলি ভাইজ বলেছেন, ইরান হরমুজ নৌপ্রবেশের মাধ্যমে আঞ্চলিক মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করছে এবং তা দিয়ে আমেরিকাকে চাপ দিতে চায়। তিনি বলেছেন, “আঞ্চলিক সমর্থন যত বেশি হবে, আমেরিকাকে এই চুক্তিকে ইরানের একক নির্দেশনা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা তত বেশি কঠিন হবে।”
গলফ কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তেলের আয় হ্রাস পাওয়ায় বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের পথ খোলার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে ভাইজ বলেছেন, আমেরিকা ইরানের সাথে চুক্তি স্বীকৃতি দেবে না, এমনকি আঞ্চলিক সমর্থন থাকলেও।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সালালা (ওমান), কামিস মুশাইত (সৌদি আরব), ওয়াশিংটন (আমেরিকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস্মাইল বাগহাই (ইরানের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র), আলি ভাইজ (ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির সহ-পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪টি (আলোচিত বিষয়), ৪টি (সৌদি আরবের হামলা), ৪টি (ইরানের প্রতিক্রিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!