📌 সোহেল শিকদার তার নির্যাতিত স্ত্রী মুক্তা ইসলামের ভাইকে মারধর ভিডিও পাঠিয়ে বোনকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। দুই দিন পর মুক্তার লাশ খিলক্ষেতের বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত চলছে।
স্বামী সোহেল শিকদার তার স্ত্রী মুক্তা ইসলামের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ভাই তানভীর রহমানকে হুমকি দেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও’। সেই ভিডিওতে দেখা যায় মুক্তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। দুই দিন পর মুক্তার মৃত্যুর খবর পেলেন পরিবার। খিলক্ষেতের একটি বাসায় মুক্তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোহেল শিকদার তার স্ত্রী মুক্তা ইসলামকে মারধর করে ভিডিও পাঠিয়ে ভাই তানভীর রহমানকে বলেন, ‘বোনকে নিয়ে যাও’।
- 📌 ১ সেপ্টেম্বর পাঠানো ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তাকে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে চামড়ার বেল্ট দিয়ে মারধর করা হচ্ছে।
- 📌 মুক্তার দুই সন্তান পাশের কক্ষে কাঁদছিল। মুক্তা স্বামীকে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে আসি’।
- 📌 দুই দিন পর মুক্তার পরিবার জানতে পারেন মৃত্যুর খবর। খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় মুক্তার মৃত্যু হয়।
- 📌 সোহেল শিকদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক রাজীব ভৌমিক।
- 📌 মুক্তার পরিবার অভিযোগ করে, নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 মুক্তা নির্যাতনের কথা পরিবারকে বলতেন না, কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও যৌতুকের কারণে মারধর হতো।
📰 বিস্তারিত
মুক্তা ইসলামের নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে তার স্বামী সোহেল শিকদারের মুঠোফোনে। ১ সেপ্টেম্বর তার ভাই তানভীর রহমানের কাছে পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তাকে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে চামড়ার বেল্ট দিয়ে মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওতে মুক্তা বলছিলেন, ‘আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি’। সোহেল তাকে বলছিলেন, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু’। ভিডিওতে মুক্তার শরীরে আঘাতের দাগ স্পষ্ট দেখা যায়।
মুক্তার পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর কলহ চলছিল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ ও যৌতুকের জন্য সোহেল তাঁকে নির্যাতন করতেন। তবে মুক্তা পরিবারকে তেমন কিছুই বলতেন না। বরিশালের বাকেরগঞ্জে মুক্তার গ্রামের বাড়ি। সোহেলের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা খিলক্ষেতে থাকতেন। সোহেল প্রথমে মুদিদোকান করতেন, পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় ভালো করতে না পারার পর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য বাড়তে থাকে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
মুক্তার মৃত্যু ঘটে খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে। গত বৃহস্পতিবার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। মুক্তার ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ভৌমিক।
"মৃত্যুর দুই দিন আগে মুক্তাকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মারধরের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
উপপরিদর্শক রাজীব ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, সোহেলের জব্দ করা মুঠোফোনেও ভিডিওটি পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সোহেল শিকদারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মুক্তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খিলক্ষেত, ঢাকা (৫ নম্বর সড়ক, ৩৯ নম্বর বাড়ি, তৃতীয় তলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুক্তা ইসলাম, সোহেল শিকদার, তানভীর রহমান, উপপরিদর্শক রাজীব ভৌমিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ সেপ্টেম্বর (ভিডিও পাঠানো তারিখ), ৩৯ (বাড়ি নম্বর), ৫ (সড়ক নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!