📌 রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে 'ভাড়া' নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মাইনুল হক জুয়েলকে মারধর করা হয়। অভিযোগে ছয়জন ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করা হলেও চার দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তা মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ
রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে 'ভাড়া' নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মাইনুল হক জুয়েলকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে জুয়েলকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় এবং তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। অভিযোগে ছয়জন ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করা হলেও চার দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তা মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাইনুল হক জুয়েল (৪৫), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) কাদিরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে 'ভাড়া' নিয়ে মারধর করা হয়।
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে জুয়েলকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় এবং মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।
- 📌 চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ দিলেও চার দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তা মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ।
- 📌 মমিন ও রবিন নামে দু'জন স্বেচ্ছাসেবক নেতাকে 'ভাড়া' করার অভিযোগ করা হয়েছে, যারা জুয়েলের সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকদের অনুরোধে ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
- 📌 মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদের কাছে জুয়েলকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে 'ভাড়া' নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মাইনুল হক জুয়েলকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে। জুয়েলকে বাসার সামনে ডেকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মমিন ও রবিন লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করেন। ঘটনায় জুয়েলের মাথায় লোহার পাইপের আঘাতে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
জুয়েলের সাবেক স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরাকে তিনি গত ৬ জানুয়ারি তালাক দিয়েছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে জুয়েলের সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের 'ভাড়া' করেন। তারা জুয়েলকে বাড়ির মালিকানা নিয়ে চাপ দিতে চেষ্টা করেন। জুয়েলের বাড়ি তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন।
জুয়েলের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা তাঁকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদের কাছে নিয়ে যেতে চাপ দেন। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় মমিন ও রবিনসহ ১০-১২ জন লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। জুয়েল মামলা করতে চান, কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা চন্দ্রিমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান তাঁকে মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, 'আপনি সরকারি চাকরিজীবী। মামলা করা ঠিক হবে না।'
এসআই মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'যারা ঘটনাস্থলে ছিল না, তাদের নামও অভিযোগে লেখা হয়। তাই সংশোধনের জন্য বলা হয়েছিল। মামলা নেওয়া হবে না, এমন না। মামলা নেওয়ার জন্য আমি নিজেই তাঁকে ফোন করেছি।'
"আমি সরকারি চাকরিজীবী। মামলা করা ঠিক হবে না। আরও ভেবে দেখেন।"
স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. রবিন বলেন, 'ভাড়ায় গিয়ে হামলা করার মতো কোনো বিষয় না। আমার বন্ধু মমিনের এক বোনের সঙ্গে মাইনুল হকের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের সমস্যার বিষয়টি মমিন আমাকে জানালে আমরা তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। কথাবার্তা বলছিলাম। এর মধ্যে অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। কে মারধর করেছে জানি না।'
অভিযোগে জুয়েলের সাবেক শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন আবেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চন্দ্রিমা থানা, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাইনুল হক জুয়েল (ব্যাংক কর্মকর্তা), মো. মমিন ও মো. রবিন (স্বেচ্ছাসেবক নেতা), মোস্তাফিজুর রহমান (এসআই)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ (মাইনুল হকের বয়স), ৬ (জানুয়ারি), ৬ (সেপ্টেম্বর), ১০-১২ (মারধরকারী লোকের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!