📌 মুক্তিযুদ্ধের সন্তান জাকির হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজাকার অভিযোগে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর তাঁর বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি ও নির্যাতন চালানো হয়। আন্দোলনকালে তাঁর ছেলে আহত হন এবং আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়
মুক্তিযুদ্ধের সন্তান জাকির হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলী সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর বাবা ও বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রাজাকার অভিযোগে তাঁর পরিবার সংক্ষুব্ধ হয়ে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাকির হোসেনের বড় ছেলে রেজাউল করিম ১৯ জুলাই ২০২৪ নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনকালে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন
- 📌 ২০-২৪ জুলাই ঢাকার আজিমপুর বাসায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তল্লাশি ও নির্যাতন চলে
- 📌 ২৪ জুলাই জাকির হোসেন পালিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া চলে যান, কিন্তু সেখানেও আওয়ামী লীগের হামলা হয়
- 📌 ২ আগস্ট রাতে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে, তিনি ছাদ থেকে পালিয়ে যান
- 📌 ৫ আগস্ট বেলা ৩টায় বন্ধু খলিলুর রহমানের ফোনে জানা যায়, রামপুরা বাড্ডায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের ঘেরাও করে রেখেছে
- 📌 জাকির হোসেন বলেন, গণমাধ্যমে জানা যায় শেখ হাসিনার নির্দেশে ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের পরামর্শে আন্দোলনকারীদের নির্বিচার গুলি করা হয়
📰 বিস্তারিত
জাকির হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, তাঁর বাবা ও বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলায় তাঁর পরিবার সংক্ষুব্ধ হয়ে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর বড় ছেলে রেজাউল করিম নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ২০ জুলাই সকাল থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা বাসায় বাসায় তল্লাশি শুরু করেন। জাকির হোসেনের আজিমপুরের বাসাও তল্লাশির শিকার হয়। ২৪ জুলাই পর্যন্ত এই তল্লাশি ও নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
২৪ জুলাই তিনি পালিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চলে যান। কিন্তু সেখানেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাঁর গ্রামের বাড়িতে হামলা করে। ২৬ জুলাই তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আহত আন্দোলনকারীদের খাবার, চিকিৎসা ও পোশাক দিয়ে সাহায্য করেন।
২ আগস্ট রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে। তিনি বাড়ির ছাদ থেকে অন্য ছাদে লাফিয়ে পালিয়ে যান। ৩ আগস্ট ভোরে তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। ৩ আগস্ট রাতে সাতকানিয়ার বাড়িতে তাঁর ওপর ভয়ংকর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, তাঁকে আন্দোলনে ছাত্রদের সহায়তা করার জন্য বারবার হামলা করা হয়।
৫ আগস্ট বেলা ৩টায় বন্ধু খলিলুর রহমান তাঁকে ফোন দিয়ে জানান, রামপুরা বাড্ডা এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের ঘেরাও করে রেখেছে। খলিলুর বলেন, যেকোনো সময় তাঁদের মেরে ফেলতে পারে। জাকির হোসেন বিকেল ৫টায় বাড্ডায় যান এবং খলিলুরকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীতে একটি গলিতে খুঁজে পান। তার শরীরে অনেক স্প্লিন্টার ক্ষত ছিল। পরে খলিলুরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
"গণমাধ্যমে জানতে পারলাম শেখ হাসিনার নির্দেশে ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের পরামর্শে আন্দোলনকারীদের নির্বিচার গুলি করা হয়। তাঁদের সর্বোচ্চ শান্তি চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আজিমপুর, নীলক্ষেত, রামপুরা বাড্ডা), চট্টগ্রাম (সাতকানিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাকির হোসেন, রেজাউল করিম, খলিলুর রহমান, রাশেদ খান মেনন, কামরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ বছর (বসবাস), ১৯ জুলাই, ২০ জুলাই, ২৪ জুলাই, ২৬ জুলাই, ২ আগস্ট, ৩ আগস্ট, ৫ আগস্ট, ৩ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!