📌 শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় সৌদি আরব থেকে ইতালি পাঠানোর প্রতারণায় ১৭ লাখ টাকা আদায় করে সন্তান রনির (২৫) সন্ধান মেলে না। পরিবার মানববন্ধনে দাবি করছে অভিযুক্তদের বিচার ও টাকা ফেরত দিতে। অভিযোগে ৩ জন আসামি করা হয়েছে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় সৌদি আরব থেকে ইতালি পাঠানোর প্রতারণায় ১৭ লাখ টাকা আদায় করে সন্তান রনির (২৫) সন্ধান মেলে না। পরিবার মানববন্ধনে দাবি করছে অভিযুক্তদের বিচার ও টাকা ফেরত দিতে। অভিযোগে ৩ জন আসামি করা হয়েছে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৭ লাখ টাকা প্রতারণায়** সৌদি আরব থেকে ইতালি পাঠানোর চক্রে আটক সন্তান রনির (২৫) সন্ধান মেলে না — পরিবার মানববন্ধনে দাবি আইনগত ব্যবস্থা
- 📌 **২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর** সৌদি আরব পাঠানোর পর রনিকে প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে আটকে রাখা হয়, পরে ইতালি পাঠানোর জন্য আরো ৮ লাখ টাকা চাওয়া হয়
- 📌 **২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর** ইতালি পাঠানোর পর রনির পরিবারকে জানানো হয় মাফিয়াদের হাতে আটক — ১০ লাখ টাকা ছাড়া ছাড়ার আশ্বাস
- 📌 **২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট** স্থানীয় সালিস বৈঠকে শাহীন বাবু রনির সন্ধান দেওয়ার আশ্বাস দেন, কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি
- 📌 **৩ জন আসামি** (শাহীন বাবু, মিঠুন বেপারী ও সাহানা বেগম) মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগে আসামি করা হয়েছে
- 📌 **চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে** প্রশিক্ষণকালে ট্যাংক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নিহত
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা এলাকায় সৌদি আরব থেকে ইতালি পাঠানোর প্রতারণায় ১৭ লাখ টাকা আদায় করে সন্তান রনির (২৫) সন্ধান মেলে না। পরিবার মানববন্ধনে দাবি করছে অভিযুক্তদের বিচার ও টাকা ফেরত দিতে। অভিযোগে ৩ জন আসামি করা হয়েছে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে।
সৌদি আরব হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে নজরুল ইসলাম রনির পরিবারের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র। সৌদি আরবে পাঠানোর পর প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো রনির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। মানববন্ধনে রনির মা রোকসানা বেগম ছেলের সন্ধান চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আমার ছেলে রনির কোনো খবর নেই। সে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। ছেলের শোকে আমি পাগল হয়ে গেছি। আমার ছেলেকে খুঁজে পেতে প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই।’
রনির ভাই সাব্বির পেদা বলেন, ‘১৭ লাখ টাকা দেওয়ার পরও দুই বছর ধরে আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান নেই। আমি আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই। একই সঙ্গে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অভিযুক্ত দালাল শাহীন বাবুর বাড়ির সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় নারী, পুরুষ ও যুবক। তাঁরা রনির সন্ধান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা এলাকার মজিবুর রহমান বেপারীর ছেলে শাহীন বাবু আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা রনিকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন।
২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাত ১১টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রনি বাংলাদেশ ছাড়েন। পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাঁকে প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ দেওয়া হলেও কয়েক মাস পর সেই চাকরিও চলে যায়। পরিবারের দাবি, দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রনিকে সৌদি আরব থেকে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ জন্য আট লাখ টাকা চাওয়া হয়। প্রথমে চার লাখ এবং ইতালিতে পৌঁছানোর পর আরও চার লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রনিকে ইতালির উদ্দেশে পাঠানো হয়। কয়েক দিন পর শাহীনের ভাই মিঠু বেপারী ফোন করে রনির পরিবারকে জানান, রনি মাফিয়াদের হাতে আটক হয়েছেন এবং তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের একজন সদস্য পরে রনির সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি তাঁকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানান বলে দাবি করা হয়। ধারদেনা করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর শাহীনের কাছে আট লাখ টাকা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর রনির বিষয়ে ভালো খবর দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
"দুই বছর ধরে আমার ছেলে রনির কোনো খবর নেই। সে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। ছেলের শোকে আমি পাগল হয়ে গেছি। আমার ছেলেকে খুঁজে পেতে প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই।"
পরিবারের দাবি, রনির সন্ধান ও টাকা ফেরতের বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক হয়। সেখানে শাহীন ও তাঁর লোকজন রনির সন্ধান দেওয়ার আশ্বাস দেন। সন্ধান দিতে না পারলে ছয় মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে পরে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি এবং রনিরও সন্ধান মেলেনি। চলতি বছরের ১৭ আগস্ট শাহীনের বাড়িতে আবারও সালিস বৈঠক হয়। সেখানে শাহীন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন নোয়াখালীর সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিহত এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ডামুড্যা উপজেলা, শরীয়তপুর; চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রনির মা রোকসানা বেগম, ভাই সাব্বির পেদা, অভিযুক্ত শাহীন বাবু, মিঠুন বেপারী, সাহানা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ লাখ টাকা, ২৫ বছর (রনির বয়স), ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০ লাখ টাকা, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!