📌 বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা মিরাজ শেখকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারকে হয়রানি, জিডি প্রত্যাখ্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জলদস্যুতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা ঘটনাটিকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে
বাগেরহাটের মোংলা এলাকার জয়মণি ঠোটা গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখকে গত ১০ এপ্রিল সাদা পোশাকে থাকা কয়েক ব্যক্তি জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে কোস্টগার্ডের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনী বারবার দায় অস্বীকার করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ এপ্রিল মোংলায় সাদাপোশাকে থাকা ব্যক্তিরা মিরাজ শেখকে তুলে নিয়ে যায়
- 📌 ঘটনার সঙ্গে কোস্টগার্ডের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের
- 📌 মিরাজ শেখের পরিবারকে চারবার থানায় গিয়ে জিডি করতে হয়েছে
- 📌 জিডিতে গুম বা অপহরণ লেখা যায়নি বলে জানায় পুলিশ
- 📌 মানববন্ধনের পর ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ; তাঁদের মধ্যে ৩ জন নারী ছিলেন
- 📌 গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা টানা ২৭ দিন কারাবরণের পর জামিনে মুক্তি পান
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাটিকে জলদস্যুতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন
📰 বিস্তারিত
মিরাজ শেখকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে গত বছরের ১০ এপ্রিল। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, সাদা পোশাকে থাকা কয়েক ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনার সঙ্গে কোস্টগার্ডের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনী বারবার দায় অস্বীকার করেছে। মিরাজ শেখের পরিবার ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১১ এপ্রিল মোংলার দিগরাজে কোস্টগার্ড অফিসে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তিনি ‘অভিযানে’ আছেন এবং বিকেলে আসতে বলেন। কিন্তু বিকেলে তাঁরা মিরাজ শেখের উপস্থিতি অস্বীকার করেন।
এ ঘটনার পর ২৩ এপ্রিল থানায় জিডি করা হলেও পরিবারের অভিযোগ, চারবার থানায় যাওয়ার পর জিডি নেওয়া হয়েছে। এমনকি জিডিতে ঘটনার ভাষ্য পরিবর্তনেও বাধ্য করা হয় পরিবারকে। পুলিশের বক্তব্য ছিল, জিডিতে গুম বা অপহরণ লেখা যায় না এবং আন্তবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ঘটনাটিকে জলদস্যুতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হয়েছে, তবে তদন্তে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
মিরাজ শেখের পরিবার ও গ্রামবাসী গত ৯ জুন মানববন্ধন করলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে এলাকাবাসীর পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে মিরাজ শেখের পরিবারের ৩ নারীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা টানা ২৭ দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি দুটি সংবাদমাধ্যম মিরাজ শেখের গুমের ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাল্টে ফেলার অভিযোগও উঠেছে পরিবারের পক্ষ থেকে।
"ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হয়েছে, তবে তদন্তে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়মণি ঠোটা গ্রাম, মোংলা, বাগেরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিরাজ শেখ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল, ৯ জুন, ১২ জন গ্রেপ্তার, ২৭ দিন কারাবাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!