📌 রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে দুই আসামির মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে ফোনালাপের ধরন বিশ্লেষণে
রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে দুই আসামির মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। ফোনালাপের ধরন বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে দুই আসামির মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পূর্ববর্তী ৮০ ঘণ্টার ফোনকলের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ
- 📌 হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় আসামি সিদ্ধার্থ দাস এক ব্যক্তির নম্বরে ৩০ বার কল করেন
- 📌 অধিকাংশ কলের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৩ থেকে ১৭ সেকেন্ড
- 📌 দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি
- 📌 আদালত দুই আসামিকে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী সোমবার (৩১ আগস্ট) এশিয়া পোস্টকে জানান, হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টাতেই সিদ্ধার্থ দাস তার দুটি মোবাইল নম্বর থেকে মুগ্ধ দাসের একটি নম্বরে ৩০ বার কল করেন। অধিকাংশ কলের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৩, ১৫ ও ১৭ সেকেন্ড। এমনকি ২০ আগস্টের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ একটি ফোনালাপের স্থায়িত্ব ছিল ৯৬ সেকেন্ড।
তিনি আরও জানান, ২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ৮০ ঘণ্টার ফোনকলের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই সময়ে দুই আসামির সঙ্গে বাইরের আরও কিছু ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি পুলিশ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যেই সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে বাধা দিলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মোট নয়টি ইয়াবা সেবনের কথাও জানিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তবে সোমবার বিকেলে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশে রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে দুই দিন আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
"তাদের যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিষয় নয়। এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সনাতন চক্রবর্তী (উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিবি), গণপতি চক্রবর্তী (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক), সিদ্ধার্থ দাস, মুগ্ধ দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বার (ফোনালাপ), ৩০ বার (কল), ১৩-১৭ সেকেন্ড (কল স্থায়িত্ব), ৯৬ সেকেন্ড (সর্বোচ্চ কল স্থায়িত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!