📌 বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আক্তার হোসেনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি পেনশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে সরানোর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ২৬ জন পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে এই জালিয়াতি সম্পন্ন হয়েছিল। সিজিডিএফ কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু তদন্তকারীরা আরও বড় জালিয়াতির সম্ভাবনা দেখিয়েছেন
বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আক্তার হোসেনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি পেনশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ সরানোর একটি বিশাল জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এই জালিয়াতিতে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মাসিক পেনশন এবং বকেয়া পেনশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পেনশনভোগীদের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সরানোর এই অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আক্তার হোসেনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ১৫ হাজার ৪০৬ টাকা পেনশনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪ লাখ টাকা পেয়েছেন। এক বছরে তিনি প্রায় ৭২ লাখ টাকা পেয়েছেন, যার মধ্যে কমিশন হিসেবে ১ লাখ টাকা রাখেন এবং বাকি টাকা জালিয়াতি চক্রকে ফেরত দেন।
- 📌 সরকারি তদন্তে ২৬ জন পেনশনভোগীর নামে ৩৪৬টি বকেয়া পেনশন বিল তৈরি করে ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 আইবাস প্লাস প্লাস (ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম) ব্যবহার করে অনুমোদনহীন বকেয়া বিল তৈরি করে পেনশনভোগীদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সরানো হয়েছিল।
- 📌 সিজিডিএফ কার্যালয়ের সাবেক অডিট সুপার শাহীনুর রহমান খান ও ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার ইশরাত জাহানকে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
- 📌 পেনশনভোগীদের সঙ্গে কমিশনের বিনিময়ে সমঝোতা করা হয়েছে, আবার কাউকে পেনশন আটকে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আক্তার হোসেনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি পেনশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার একটি জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। আক্তার হোসেনের মতো আরও অনেক অবসরপ্রাপ্ত সদস্য তাদের মাসিক পেনশনের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছেন। এই অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে কমিশন হিসেবে এক লাখ টাকা রাখা হয় এবং বাকি টাকা জালিয়াতি চক্রকে ফেরত দেওয়া হয়। এই ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ৭২ লাখ টাকা পেয়েছেন আক্তার হোসেন।
সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ সরানোর এই জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। এই জালিয়াতিতে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২৬ পেনশনভোগীর নামে ৩৪৬টি বকেয়া পেনশন বিল তৈরি করে ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিজিডিএফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা পেনশনের নথি থেকে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কমিশন রেখে বাকি টাকা ফেরত দিতে রাজি হলে পরের মাস থেকেই তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হতো। এই ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ সরানোর এই অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য সাবেক অডিট সুপার শাহীনুর রহমান খান ও ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার ইশরাত জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
"বকেয়া মাসিক পেনশন’ খাত দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে এ অর্থ পাঠানো হতো। কোনো পেনশনভোগীর সঙ্গে কমিশনের বিনিময়ে সমঝোতা করা হয়েছে, কাউকে পেনশন আটকে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সিজিডিএফ কার্যালয়, পেনশন কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আক্তার হোসেন, শাহীনুর রহমান খান, ইশরাত জাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা (জালিয়াতির অর্থ), ২৬ জন পেনশনভোগী, ৩৪৬টি বকেয়া বিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!