📌 বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, পেটের অণুজীব আমাদের খাবারের পছন্দ ও ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া অসুস্থতায় বাড়িয়ে দেয় ক্ষুধা, আর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সেরোটোনিন তৈরি করে খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে।
বিজ্ঞানীরা একটি চমকপ্রদ আবিষ্কার করেছেন: মানুষের পেটের অণুজীব আমাদের খাবারের ইচ্ছা ও পছন্দকে গোপনে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ২০১৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পেটের জীবাণু নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার প্রতি টান দেয়। এমনকি যদি আমরা তাদের পছন্দের খাবার না খাই, তখনও তারা পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণার অন্যতম লেখক নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডাক্তার জো অ্যালকক বলেছেন, ‘আমরা যা খেতে চাই, আমাদের পেটের জীবাণুরা সবসময় সেই ইচ্ছার সঙ্গে একমত হয় না।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সালমোনেলা টাইফিমুরিয়াম ব্যাকটেরিয়া অসুস্থতায় ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়, সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়
- 📌 পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষণা প্রমাণ করে: অন্ত্রের অণুজীব খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে
- 📌 অন্ত্রের ৯০% সেরোটোনিন তৈরি হয় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে, যা খাবারের ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 ‘ব্যাকটেরয়েডস ভালগাটাস’ ব্যাকটেরিয়া চিনি খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কম থাকে
- 📌 মানুষের খাদ্যাভ্যাসে অণুজীবের প্রভাব এখনো সম্পূর্ণ প্রমাণিত নয়, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অবস্থাও জড়িত
📰 বিস্তারিত
বায়োএসেস জার্নালে ২০১৪ সালে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, পেটের অণুজীব আমাদের খাবারের পছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে। সালমোনেলা টাইফিমুরিয়াম নামের ব্যাকটেরিয়া যখন সংক্রমণ ঘটায়, তখন অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠানো রাসায়নিক সংকেতে গোলমাল সৃষ্টি করে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বারবার খেতে থাকে। অধ্যাপক জো অ্যালকক ব্যাখ্যা করেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থায় সংক্রমণে ক্ষুধা কমে যায়, কিন্তু সালমোনেলা এই নিয়ন্ত্রণকে আটকে দেয় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়।’
২০২২ সালে পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী কেভিন কোল এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞানী ব্রায়ান ট্রেভেলিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করেন। তারা মাংসাশী, তৃণভোজী ও সর্বভোজী ইঁদুরের পেট থেকে অণুজীব সংগ্রহ করে জীবাণুমুক্ত ইঁদুরের পেটে প্রতিস্থাপন করেন। গবেষণায় দেখা যায়, তৃণভোজী ইঁদুরের অণুজীব পাওয়া ইঁদুরগুলো প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করে, আর মাংসাশী ইঁদুরের অণুজীব পাওয়া দলটি কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার বেছে নেয়। এই পরীক্ষা প্রমাণ করে, অন্ত্রের অণুজীব খাদ্যাভ্যাসকে নিশ্চিতভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কের জন্য দরকারি রাসায়নিক সংকেত তৈরি করে, যার মধ্যে সেরোটোনিন অন্যতম। বিজ্ঞানীরা জানান, আমাদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন পেটের অন্ত্রেই তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া খাবারের ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করে। পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক কেভিন কোল বলেন, ‘অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তন মানুষের খাওয়ার আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে, নতুন খাবারের প্রতি টান তৈরি করতে পারে।’
২০২৫ সালে ‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, ‘ব্যাকটেরয়েডস ভালগাটাস’ নামের একটি ব্যাকটেরিয়া ইঁদুরের চিনি খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এটি জিএলপি-১ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়, যা ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিকেও কাজে লাগায়। গবেষকরা দেখেছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। তবে কেভিন কোল সতর্ক করেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে অণুজীবের প্রভাব এখনো সম্পূর্ণ প্রমাণিত নয়। সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত অভ্যাসও জড়িত।
"আমরা যা খেতে চাই, আমাদের পেটের জীবাণুরা সবসময় সেই ইচ্ছার সঙ্গে একমত হয় না।"
"আমি ভেবেছিলাম মাংসাশী ইঁদুরের অণুজীব পাওয়া ইঁদুরগুলো বেশি প্রোটিনজাতীয় খাবার পছন্দ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটি, পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটি, কর্নেল ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডাক্তার জো অ্যালকক, কেভিন কোল, ব্রায়ান ট্রেভেলিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ (সেরোটোনিন), ১ (জিএলপি-১ হরমোন), ২ (ডায়াবেটিস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!