📌 সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় বাঁশের শলায় বোনা ঝুড়ি, ডালা ও অন্যান্য পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শতাধিক কারিগর। বাঁশের কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রেখে তারা প্রতিদিনই চিরানো বাঁশ দিয়ে নানা পণ্য তৈরি করছেন, কিন্তু কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে লাভ কমে যাচ্ছে
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোড়া পাকড়াতলা গ্রামে বাঁশের শলায় বোনা জীবন ধরে রেখেছেন শতাধিক মানুষ। সড়কের পাশে বসে বাঁশের চিকন শলা দিয়ে ঝুড়ি, ডালা, কুলা ও অন্যান্য পণ্য তৈরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিশ্বনাথ দাসের মতো অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আজও জড়িত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২ সেপ্টেম্বর** সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় বাঁশের শলায় বোনা পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৫০ জনেরও বেশি কারিগর।
- 📌 **বিশ্বনাথ দাস** ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি ঝুড়ি তৈরি করতে ৭০-৮০ টাকা খরচ করেন। সকাল থেকে বেলা একটার মধ্যে তিনি দুটি ঝুড়ি তৈরি করেছেন।
- 📌 **ললিতা দাস** বাঁশের ঝুড়ির নিচের অংশ তৈরি করে স্বামী পঞ্চানন দাসের সাথে কাজ করেন। প্রতিদিন তিনি দুটি ঝুড়ির জো তৈরি করেন।
- 📌 **অরবিন্দ দাস** ও **স্বপন দাস** বাঁশ দিয়ে কাঁকড়ার আটন, ঢাকনা, মাছ ধরার খলুই ও অন্যান্য পণ্য তৈরি করেন। তারা বলেন, বাঁশের দাম বেড়ে গেছে, কিন্তু পণ্যের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি।
- 📌 **রবিন দাস** ২৫ বছর ধরে বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি টাবরা ২০০ টাকায় বিক্রি হয়, কিন্তু কিনতে হয় ১৮০ টাকায়।
- 📌 **বাঁশের কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য** ধরে রেখেছেন পুরুষ ও নারী উভয়ই। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও লাভ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহী নয়।
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোড়া পাকড়াতলা গ্রামে সড়কের পাশে বসে বাঁশের শলায় বোনা পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শতাধিক মানুষ। বিশ্বনাথ দাসের মতো অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আজও জড়িত। বিশ্বনাথ দাসের কাছে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বাঁশের চিকন শলা দিয়ে ঝুড়ি বুনছেন। তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকেই এই কাজ করছি। বয়সও পঁয়ষট্টির ওপর গেছে, কিন্তু আমার ব্যবসা এইটাই।’
ললিতা দাসের মতো নারীরাও এই পেশায় যুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমি ঝুড়ির নিচের অংশ তৈরি করি। এরপর স্বামী পঞ্চানন দাস ওপরের অংশ বোনেন। প্রতিদিন দুটি ঝুড়ির জো তৈরি করে দিই। কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই করে যাচ্ছি।’
অরবিন্দ দাস ও স্বপন দাসের মতো কারিগররা বাঁশ দিয়ে কাঁকড়ার আটন, ঢাকনা, মাছ ধরার খলুই, কাবরা, কুলা সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেন। তারা বলেন, বাঁশের দাম বেড়ে গেছে, কিন্তু পণ্যের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে। স্বপন দাস বলেন, ‘একটি বাঁশ কিনতেই ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লাগে। বিনা সুদে ঋণ পেলে কাজটি ধরে রাখা সহজ হতো।’
দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সামনে বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি করছেন ষাটোর্ধ্ব রবিন দাস। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। কিছু পণ্য নিজে তৈরি করি, বাকিগুলো আশপাশের গ্রামের কারিগরদের কাছ থেকে কিনে আনি। প্রতিটি টাবরা ২০০ টাকায় বিক্রি করি, কিনতে হয় ১৮০ টাকায়। এই পণ্য বিক্রি করেই আমার সংসার চলে।’
"বাপ-দাদার আমল থেকেই এই কাজ করছি। বয়সও পঁয়ষট্টির ওপর গেছে, কিন্তু আমার ব্যবসা এইটাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা, কোড়া পাকড়াতলা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বনাথ দাস, ললিতা দাস, পঞ্চানন দাস, অরবিন্দ দাস, স্বপন দাস, রবিন দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জন কারিগর, ১৫০ টাকা (ঝুড়ির বিক্রয় মূল্য), ৭০-৮০ টাকা (খরচ), ২৫ বছর (রবিন দাসের ব্যবসা), ১৫০-২০০ টাকা (বাঁশের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!