📌 ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিইউ ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অপরাধী চক্রের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। রোগী সরানোর ব্যবসা, ওয়ার্ডে দায়িত্ব পেতে টাকা নেওয়া, মোবাইল চুরি ও দালালদের সহযোগিতা — এসবের পেছনে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবসা থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে উঠেছে জোরালো অভিযোগ। হাসপাতালের কর্মকর্তা, রোগীর স্বজন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আনসার সদস্যদের হাত ধরে রোগী সরানোর ব্যবসা, ওয়ার্ডে দায়িত্ব পেতে টাকা নেওয়া, অপরাধীদের সহযোগিতা — এসবের পেছনে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢামেকের আনসার সদস্যরা আইসিইউ বেডের নামে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী সরানোর ব্যবসা চালাচ্ছেন। ধানমন্ডির ‘টুয়েন্টি সেভেন’ ক্লিনিকের সাথে তাদের যোগসাজশ রয়েছে।
- 📌 জরুরি বিভাগে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের প্রতি রোগী নিয়ে যেতে ২০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়।
- 📌 আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডারকে প্রতি সপ্তাহে ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা দিতে হয় সুবিধাজনক ওয়ার্ডে দায়িত্ব পেতে।
- 📌 হাসপাতালের ২১১ ও ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ডিউটি নেওয়ার জন্য ‘এ’ শিফটে ৪০ হাজার টাকা, ‘বি’ শিফটে ৩২ হাজার টাকা দিতে হয়।
- 📌 ওয়ার্ডে মোবাইল চুরি, দালালদের সহযোগিতা ও অপরাধীদের সহজে হাসপাতালে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় আইসিইউর সামনে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য মহসিনের সঙ্গে সারাবাংলার প্রতিবেদকের কথোপকথন থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদক রোগীর স্বজন পরিচয়ে আইসিইউতে একটি শয্যার ব্যবস্থা করার বিষয়ে জানতে চান। মহসিন বলেন, ‘এখানে বেড পাওয়া সহজ নয়। ওপর লেভেলে লোক থাকতে হয়।’ প্রতিবেদক জানান, তার রোগী উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন। প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে সেখানে। কম খরচে ঢামেকে আইসিইউয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য মহসিন একটি মোবাইল নম্বর দেন। সেই নম্বরে ফোন দিলে ইমরান নামের একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, ধানমন্ডির ‘টুয়েন্টি সেভেন’ ক্লিনিক থেকে রোগী নিয়ে গেলে তুলনামূলক কম খরচে ভর্তি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন। এই অর্থের উৎস হিসেবে তারা হাসপাতালের ওষুধ চোর চক্র, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের ব্যবহার করেন। হাসপাতালের ২১১ ও ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ডিউটি নেওয়ার জন্য ‘এ’ শিফটে ৪০ হাজার টাকা, ‘বি’ শিফটে ৩২ হাজার টাকা দিতে হয়। এই ওয়ার্ডগুলোতে দালাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রক্ত সংগ্রহকারী, ওষুধ চোর ও বহিরাগত ট্রলিম্যানদের আনাগোনা বেশি থাকায় আনসার সদস্যদের এখানে দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ বেশি।
অন্যদিকে, জরুরি বিভাগের সামনে রোগী নিয়ে কোনো সিএনজি অটোরিকশা গেলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যকে ২০ টাকা দিতে হয়। এছাড়া, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাও ঘটে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব চুরির সঙ্গে আনসার সদস্যদের একটি অংশের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ রোগী ও স্বজনদের অনেক সময় নানা অজুহাতে বাধা দেওয়া হলেও দালাল ও বহিরাগত অপরাধীরা সহজেই হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতে পারেন।
"এখানে বেড পাওয়া এত সহজ না। ওপর লেভেলে লোক থাকতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনসার সদস্য মহসিন, ইমরান (ধানমন্ডি ‘টুয়েন্টি সেভেন’ ক্লিনিক), সিএনজি চালকরা, হাসপাতাল কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ টাকা (সিএনজি চাঁদা), ২০ হাজার টাকা (দৈনিক খরচ), ৪০ হাজার টাকা (‘এ’ শিফট ডিউটি ফি), ৩২ হাজার টাকা (‘বি’ শিফট ডিউটি ফি), ২১১ ও ২১২ নম্বর ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!