📌 মাগুরা সদর উপজেলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই করে ভাগভাগির বিরোধে যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মারুফ হোসেন ২০ লাখ টাকা চুক্তি দিয়ে গোলাম জাহিদের মাধ্যমে হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন
মাগুরা সদর উপজেলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৫০ ভরি স্বর্ণের ভাগভাগির বিরোধে যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে (৩৬) হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন। তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চুক্তি দিয়ে শাকেরকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাগুরা সদর উপজেলায় ৬ অক্টোবর মজিবর রহমানের কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ও ৬০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়; স্বর্ণের বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা
- 📌 ছিনতাই করা স্বর্ণের ভাগভাগির বিরোধে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মারুফ হোসেন শাকের হোসেনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন
- 📌 গোলাম জাহিদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চুক্তি দিয়ে শাকের হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়; ২১ অক্টোবর মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শাকেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়
- 📌 স্বর্ণ ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ জনের মধ্যে গোলাম জাহিদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে; তাদের কাছ থেকে ৯ ভরি স্বর্ণ, বুলেট ও গাড়ি জব্দ করা হয়
📰 বিস্তারিত
মাগুরা পুলিশ লাইনে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশ পরিচয়ে একটি পরিবহনে ওঠে। তারা মানিকগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনিবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ও ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ জানান, এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
ছিনতাই করা স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন মারুফ হোসেন। কিন্তু স্বর্ণের ভাগ না পেয়ে শাকের হোসেন বারবার দাবি জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে গোলাম জাহিদ উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন। শাকেরকে পাঁচ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি সন্তুষ্ট হননি। মারুফ হোসেনের চাপে গোলাম জাহিদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চুক্তি দিয়ে শাকেরকে হত্যা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।
২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মোটরসাইকেলে এসে শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গোলাম জাহিদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন স্বর্ণ ছিনতাই ও ভাগাভাগির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা।
"ছিনতাই করা স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন মারুফ হোসেন। কিন্তু স্বর্ণের ভাগ না পেয়ে শাকের হোসেন বারবার দাবি জানাতেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে। পরে গোলাম জাহিদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চুক্তি দিয়ে শাকেরকে হত্যা করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাগুরা সদর উপজেলা, রামনগর বাজার, হলিনগর গ্রাম, মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাকের হোসেন (৩৬), গোলাম জাহিদ, মারুফ হোসেন, মজিবর রহমান, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ ভরি স্বর্ণ, ৬০ হাজার টাকা, ২০ লাখ টাকা, ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা (স্বর্ণের মূল্য), ১১ জন গ্রেপ্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!