📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের পরাজিত করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ট্রাম্পের শুল্ক ও অভিবাসন নীতির ওপর চাপ বাড়বে। তবে আইনি সীমাবদ্ধতা থাকায় ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা সম্পূর্ণ সীমিত নয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এতে আগামী জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্ক ও অভিবাসন নীতির ওপর কঠোর নজরদারি ও প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, শুল্ক আরোপ ও অভিবাসী বহিষ্কারের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের পরাজিত করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া; ট্রাম্পের শুল্ক ও অভিবাসন নীতির ওপর চাপ বাড়বে
- 📌 ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে
- 📌 ১৫০ দিনের মেয়াদবিহীন শুল্ক বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন; ডেমোক্র্যাটরা কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড়ের উদ্যোগ নিতে পারে
- 📌 ৫৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কর্মসূচি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে
- 📌 নতুন কংগ্রেসে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, জেফরি এপস্টেইন সম্পর্ক ও ইরান যুদ্ধের তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এতে ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্ক ও অভিবাসন নীতির ওপর কঠোর নজরদারি ও প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, শুল্ক আরোপ ও অভিবাসী বহিষ্কারের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারবে। তবে কোনো আইন বাতিল করতে বা ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা সম্পূর্ণ সীমিত নয়। কারণ, আইন বাতিলের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন, যা ডেমোক্র্যাটদের হাতে নেই।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে নেওয়া এ পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করলেও বিকল্প আইনি ব্যবস্থায় নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে শুল্কের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে এসব শুল্কের মেয়াদ ১৫০ দিন এবং বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর চাপ পড়েছে। নতুন কংগ্রেস রপ্তানিকারকদের সাময়িক স্বস্তি দিতে কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড়ের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তনের জন্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব পাবে। ফলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, কারাগারে মারা যাওয়া যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহিষ্কারে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সহযোগিতা খতিয়ে দেখতে চান ডেমোক্র্যাটরা।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের ক্ষমতা পুরোপুরি সীমিত করলেও তাঁর নীতির ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী হয়েছে। নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী অভিযান মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
"গত বছর প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে নেওয়া এ পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেমোক্র্যাটরা, জেফরি এপস্টেইন, পিট হেগসেথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০টি দেশ, ১০-৫০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ১৫০ দিন, ৫৩ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!