📌 দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যুবদলের নেতা উজ্জ্বল মিয়া (৪১) প্রতারণার মাধ্যমে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। বাদী রিফাত কবীরের সাথে জমি বিক্রির চুক্তি ভঙ্গের পর টাকা ফেরত চাওয়ার সময় উজ্জ্বল মিয়া যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকে আজ মঙ্গলবার দিনাজপুর আদালতে হাজত করবে
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবদলের নেতা উজ্জ্বল মিয়া (৪১) গ্রেপ্তার হন। গতকাল সোমবার রাত দুইটার দিকে ঘোড়াঘাট পৌর শহর থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান প্রথম আলোকে জানান, আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত উজ্জ্বল মিয়াকে দিনাজপুর আদালতে হাজত করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাত: প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উজ্জ্বল মিয়া গ্রেপ্তার হন
- 📌 বাদী রিফাত কবীর: সাগরপুর মৌজার ৫৭ শতাংশ জমি বিক্রির পর ৪৮ লাখ টাকা নেওয়া হলেও গরু না দিলে টাকা ফেরত চান
- 📌 উজ্জ্বল মিয়া: ১০ লাখ টাকা নগদ + ব্যাংক অগ্রিম ৩০ লাখ + ঋণ ১৮ লাখ টাকা মোট ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- 📌 সালিস চুক্তি ভঙ্গ: ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৭ লাখ টাকা দিলেও বাকি টাকা পরিশোধ করেননি
- 📌 যুবদলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা: অভিযোগ সত্য হলে নেতা উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান যুবদলের আহ্বায়ক
📰 বিস্তারিত
ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ছয়ঘট্টি গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া যুবদলের ঘোড়াঘাট উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। গতকাল রাতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন উপজেলার কাশিয়াতলা শিধলগ্রামের বাসিন্দা রিফাত কবীর। রিফাত কবীরের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তাঁর ৫৭ শতাংশ জমি উজ্জ্বল মিয়ার কাছে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করেন উজ্জ্বল মিয়া। বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে তিনি গড়িমসি শুরু করেন।
পরে রিফাতের গরুর খামারের জন্য ৫০টি গরু দেওয়ার কথা বলে, চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অগ্রিম ৩০ লাখ টাকা এবং ঋণ হিসেবে ১৮ লাখ টাকা নেন উজ্জ্বল মিয়া। মোট ৪৮ লাখ টাকা নেওয়ার পরও গরু না দেওয়ায় রিফাত টাকা ফেরত চান। এরপর উজ্জ্বল মিয়া তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে ৮ জুন স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সালিস হয় জানান রিফাত। তখন প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাওনার বিপরীতে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন উজ্জ্বল মিয়া। বাকি টাকা অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকারও করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।
রিফাত কবীর আরও জানান, পাওনা টাকা চাইলে উজ্জ্বল মিয়া আর কোনো টাকা দেবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রিফাত।
"কেউ অপরাধ করলে তাঁকে অবশ্যই সাজার আওতায় আসতে হবে। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
যুবদলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, "কেউ অপরাধ করলে তাঁকে অবশ্যই সাজার আওতায় আসতে হবে। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঘোড়াঘাট উপজেলা, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উজ্জ্বল মিয়া (৪১), রিফাত কবীর, মাহমুদ হাসান (ওসি), এ কে এম মাসুদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ লাখ টাকা (আত্মসাত), ৪১ বছর (উজ্জ্বল মিয়া), ৫৭ শতাংশ জমি, ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ১০ লাখ টাকা (নগদ), ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৫০টি গরু, ৩০ লাখ টাকা (অগ্রিম), ১৮ লাখ টাকা (ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!