📌 কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপের রেজিয়া পারভীন নিজের পড়াশোনা সাত কিলোমিটার হেঁটে শুরু করে। এখন তিনি শিক্ষকতা করে উপকূলীয় এলাকার শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন
কক্সবাজারের দুর্গম উপকূলীয় এলাকা পেঁচার দ্বীপের রেজিয়া পারভীন নিজের শিক্ষা-জীবনের শুরু থেকে শিক্ষকতা পর্যন্ত এক অদম্য পথচলা প্রদর্শন করেছেন। সাত কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যাওয়ার প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে তিনি এখন উপকূলের শিশুদের ‘প্রিয় ম্যাডাম’ হিসেবে পরিচিত। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রেজিয়া পারভীন** কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপের মাংলাপাড়ার বাসিন্দা, বর্তমানে সেখানকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
- 📌 **সাত কিলোমিটার হেঁটে** স্কুলে যেতে হতো তার নিজ গ্রামে বিদ্যালয় না থাকায়। এখন তিনি **৩৪০ শিক্ষার্থী**কে শিক্ষা দিচ্ছেন এবং **বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও মাদকবিরোধী** সচেতনতা তৈরি করছেন।
- 📌 **২০১৪ সাল** থেকে শিক্ষকতা শুরু করে তিনি **জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক ও অদম্য নারী** হিসেবে পুরস্কৃত হন।
- 📌 **পেঁচার দ্বীপ** ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত, যেখানে **৪৩ হাজার** মানুষ বাস করে এবং **৪৭.৮২ বর্গকিলোমিটার** এলাকা জুড়ে রয়েছে।
- 📌 **উপকূলীয় দুর্যোগ** (জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়) সম্পর্কে শিশুদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
📰 বিস্তারিত
রেজিয়া পারভীন কক্সবাজার শহর থেকে **২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে** অবস্থিত খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপের মাংলাপাড়ায় বাস করেন। এই এলাকায় **৮০০ পরিবার** বসবাস করে, যেখানে অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে **কৃষি ও মাছ ধরা**তে। পাহাড়ঘেরা এই উপকূলীয় এলাকায় শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। স্বাধীনতার পর থেকে **৯ নম্বর ওয়ার্ডটি** পাহাড়ের ভেতরে অবস্থিত ছিল, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাকেন্দ্রের অভাব ছিল। শিক্ষার্থীরা **৭ থেকে ১০ কিলোমিটার** দূরে উখিয়া সোনারপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে হতো।
রেজিয়া পারভীন নিজের শিক্ষা-জীবনের শুরু থেকেই প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করার উদাহরণ প্রদর্শন করেছেন। তিনি **সাত কিলোমিটার হেঁটে** স্কুলে যেতেন। বিয়ে করার পরও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং **স্নাতকোত্তর** পর্যন্ত পড়ালেখা সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন এবং বর্তমানে **পেঁচার দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক** হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয় থেকে তার বাড়ি মাত্র **৩ কিলোমিটার** দূরে অবস্থিত।
শিক্ষকতার পাশাপাশি রেজিয়া পারভীন **সামাজিক পরিবর্তন**েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে **নিরাপদ সড়ক, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ** গড়ার প্রচারণা চালান। এছাড়াও তিনি **উপকূলীয় দুর্যোগ** (জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়) সম্পর্কে শিশুদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের আবার শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তিনি।
"আমার পথচলা যদি কোনো একজন নারীকে বা মেয়েকে নতুন করে বই হাতে নিতে সাহস জোগায়, কোনো মা যদি নিজের অসমাপ্ত স্বপ্নের কথা নতুন করে ভাবেন, তবেই আমার এই শিক্ষকতা সার্থক।"
পেঁচার দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে **অষ্টম শ্রেণি** পর্যন্ত পড়ানো হয় এবং **৩৪০ শিক্ষার্থী** রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক **আকতার আহমদ** বলেছেন, শিক্ষার মান ধরে রাখতে সবাই চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের বাবা-মা ও স্থানীয়রা রেজিয়া পারভীনকে **"অত্যন্ত কর্মঠ, গুণী, মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ"** শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা করেন।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান **আবদুল হক** বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই এলাকায় শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে **৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ** নির্মিত হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছু উন্নতি হয়েছে। রেজিয়া পারভীন এই এলাকায় **বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে** কাজ করার জন্য প্রশংসিত হন। তিনি **জলবায়ু পরিবর্তনের** প্রভাবে এলাকার কিছু অংশ বিলীন হওয়ার বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পেঁচার দ্বীপ, কক্সবাজার, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজিয়া পারভীন, আবদুল হক (ইউপি চেয়ারম্যান), আকতার আহমদ (প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪০ (শিক্ষার্থী), ২৩ (কিলোমিটার), ৪৭.৮২ (বর্গকিলোমিটার), ৪৩ (হাজার লোক), ৭ (কিলোমিটার হেঁটে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!