📌 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানা ও শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে। অনুসন্ধানে তাদের অজ্ঞাত উৎসের সম্পদ পাওয়া গেছে ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকারও বেশি
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অনুসন্ধানে মামুন খালেদের ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি অজ্ঞাত উৎসের সম্পদ পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মামুন খালেদের ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার সম্পদ থাকলেও গ্রহণযোগ্য আয় মাত্র ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা — ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অজ্ঞাত উৎসের
- 📌 স্ত্রী নিগার সুলতানার ১ কোটি ৮ লাখ টাকার সম্পদ থাকলেও ৫৮ লাখ টাকা অজ্ঞাত উৎসের — মৎস্য চাষের আয় বৈধ নয় বলে প্রমাণিত
- 📌 শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের ১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদ থাকলেও ৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা অজ্ঞাত উৎসের — ৬ কোটি টাকার মৎস্য চাষের আয়ও ভিত্তিহীন
- 📌 দুদক আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তিনজনকে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে — তদন্ত চলছে, পরবর্তী পদক্ষেপ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধানে শেখ মামুন খালেদের ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় মাত্র ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা। এর ফলে তাঁর অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অজ্ঞাত উৎসের সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানার ১ কোটি ৮ লাখ টাকার সম্পদ থাকলেও তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ৭৪ লাখ টাকা। ফলে তাঁর সঞ্চয় ৪৯ লাখ টাকা। কিন্তু তাঁর সম্পদ ৫৮ লাখ টাকা অজ্ঞাত উৎসের। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর আয়কর নথিতে দেখানো মৎস্য চাষের ৪০ লাখ টাকার আয় বৈধ নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৩-২৪ করবর্ষে দেখানো ১৭ লাখ টাকার আয়ও কোনো বৈধ উৎসের নেই।
মামুন খালেদের শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের ১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ব্যয়সহ তাঁর মোট অর্জিত সম্পদ ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা অজ্ঞাত উৎসের। তাঁর আয়কর নথিতে দেখানো ৬ কোটি টাকার মৎস্য চাষের আয়ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে দেখানো ১ কোটি ৩ লাখ টাকার কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি।
"দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শেখ মামুন খালেদ, নিগার সুলতানা ও শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।"
দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, অনুসন্ধান চলমান। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুদকের নিজস্ব ইচ্ছেমতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা (দুদকের প্রধান কার্যালয়) ও বরিশাল (দুদকের জেলা কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ (অব.), নিগার সুলতানা, শেখ আমিনুর রহমান, মো. সাইদুর রহমান খান (দুদক সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- মামুন খালেদের অজ্ঞাত উৎসের সম্পদ: ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা
- নিগার সুলতানার অজ্ঞাত উৎসের সম্পদ: ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকা
- শেখ আমিনুর রহমানের অজ্ঞাত উৎসের সম্পদ: ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকা
- মোট তিনজনকে মামলা করার অনুমোদন: ৩টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!